কুড়িগ্রামে ভাঙা সেতুতে কাঠের জোড়াতালি,ঝুঁকি নিয়েই পারাপার ১৫ গ্রামের মানুষের

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মুছল্লীপাড়া এলাকায় হাজীনি খালের ওপর নির্মিত একটি পুরোনো সেতু ধসে পড়ায় অন্তত ১৫ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আপাতত কাঠ ও গাছের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও সেখানে কোনো ধরনের হালকা বা পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৪ মে একটি অতিরিক্ত ভার বহনকারী ট্রাক্টর সেতুটি পার হওয়ার সময় মাঝের অংশ হঠাৎ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ট্রাক্টরে থাকা ছয়জন আহত হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পর প্রায় দুই সপ্তাহ সেতুটি দিয়ে সব ধরনের চলাচল বন্ধ ছিল। পরে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে এলজিইডি ভাঙা অংশে কাঠের তক্তা ও গাছের খুঁটি বসিয়ে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করে। তবে সেটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যান চলাচল করতে পারছে না।
এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল চরাঞ্চলের নওয়াবস, ছত্রপুর, নয়ারহাট, ভেলুরবাজারসহ প্রায় ১০টি গ্রাম এবং মূল ভূখণ্ডের আরও পাঁচটি গ্রামের মানুষ। জেলা শহর ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াতের প্রধান সংযোগ হওয়ায় সেতুটি অচল হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
মুছল্লীপাড়া গ্রামের কৃষক আবু বকর বলেন, কাঠের তৈরি অস্থায়ী অংশ দিয়ে মানুষ কোনো রকমে হেঁটে যেতে পারলেও ফসল বা অন্যান্য মালামাল বহন করা সম্ভব নয়। মাঠের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে এলজিইডির উদ্যোগে ১৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে এটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পরপরই সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে খালটিতে পানি কম থাকায় দ্রুত মাটি ভরাট করে বিকল্প চলাচলের রাস্তা (ডাইভারশন) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব