মাতামুহুরীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, যুবক গুরুতর আহত

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কাজলীবাপের চর এলাকায় এক মাদ্রাসা সুপারের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতরা বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, হজ পালনের জন্য সংরক্ষিত নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
পালানোর সময় ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে বাড়ির মালিকের ছেলে দিদারুল হক (২৪) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মাওলানা আবদুল মোমেন হেলালী ঢেমুশিয়া মোহছেনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট জানান, ঘটনার সময় তিনি মাদ্রাসার কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে একদল সশস্ত্র ডাকাত বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারিতে রক্ষিত স্বর্ণালংকার, হজ পালনের জন্য রাখা ৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় দিদারুল হক তাদের একজনকে ধরে ফেলার চেষ্টা করলে অন্য সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাওলানা আবদুল মোমেনের দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে মনি বলেন, বাবা মাদ্রাসার কাজে ঢাকায় ছিলেন। গভীর রাতে ডাকাতরা আমাদের বাড়িতে ঢুকে আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার, হজের জন্য জমানো টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তার বড় ভাই দিদারুল তাদের বাধা দিতে গেলে ডাকাতরা রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ রোধে রাতের টহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করেছে।
ভোরের অঅকাশ/ এনউব