সিরাজগঞ্জে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সোবহান প্রামানিক (৭০) নামে একজনকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা অভিযোগ করেছেন পরিবার।
এসময় তার স্ত্রী শেফালী খাতুন কেউ কুপিয়ে আহত করা হয়। আহত শেফালী খাতুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীররা জানায়, রবিবার গভীর রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলং জানি গ্রামে দুগ্ধ সমিতির সাবেক ম্যানেজার সোবাহান প্রামানিক ঘরের সিঁধ কেটে একদল দুর্বৃত্ত ভিতরে প্রবেশ করে সোবহান প্রামানিককে এলোপাতাড়ি মাথায় কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এসময় সাথে থাকা তার স্ত্রী শেফালী খাতুন বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। তবে হত্যাকান্ডের সঠিক কারন জানাতে পারেনি। হত্যার কারণ ও জড়িতদের সনাক্তে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ঠান্ডু মোল্লা বংশ ও রুহুল প্রামাণিক বংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ২০২৩ সালে ঠান্ডু মোল্লার লোকজন প্রতিপক্ষ মোশাররফ প্রমানিক ও তার ছেলে জামাল প্রমানিককে (জোড়া খুন) কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় দায়েরকৃত মামলা আদালতে স্বাক্ষ্য গ্রহন চলছে।
নিহত সোবহান প্রামানিকের ছেলে মাসুদ, ভাতিজা শান্ত, হামিদ এই জোড়া খুন হত্যা মামলা আসামি।
স্থানীয়দের ধারনা পুর্ব শক্রতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। অথবা জোড়া খুন থেকে বাঁচতে নিজেরাই হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
জোড়াখুন হত্যা মামলার বাদীর চাচা আলহাজ্ব আব্দুল মোতালেব বলেন, ২০২৩ সালে ঠান্ডু মোল্লার লোকজন আমার বড় ভাই মোশাররফ প্রমানিক ও ভাতিজা জামাল প্রমানিককে (জোড়া খুন) কুপিয়ে হত্যা করে।
এঘটনায় দায়েরকৃত মামলা আদালতে স্বাক্ষ্য গ্রহন চলছে। আমাদের আশাংকা জোড়া খুন মামলা থেকে বাঁচতে নিজেরাই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আমাদের উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার এই হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত চাই।
ভোরের আকাশ/ র.ই