দিরাইয়ে দিনে মাদকবিরোধী ছদ্মবেশ, রাতে আসল রূপ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে মাদকের ভয়াবহতা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আর এই মরণনেশার বিস্তার ঘটাতে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা প্রতিনিয়ত অবলম্বন করছে নিত্যনতুন অভিনব কৌশল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সামাজিক প্রতিরোধকে ফাঁকি দিতে তারা এখন সুকৌশলে ঢুকে পড়ছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মাদক বিরোধী কমিটিতে।
দিরাই থানা সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে চলতি সময় পর্যন্ত পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে মাদক সেবন ও খুচরা বিক্রির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযানকালে ধৃত খুচরা বিক্রেতাদের হেফাজত থেকে ৭ লিটার দেশীয় তৈরি চুলাই মদ ও ১২৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিরাইয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব সভায় খোদ চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। দিনের বেলায় এসব মাদক কারবারিরা ছদ্মবেশে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে মিশে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা পালন করে এবং সেই মাদকবিরোধী ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) প্রচার করে সমাজে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করছে। কিন্তু রাতের অন্ধকার নামতেই বেরিয়ে আসে তাদের আসল রূপ ও প্রকাশ্য মাদক ব্যবসা।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আরও জানান, রাতের মাদক কারবারিরা যখন দিনের বেলায় মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ করে বেড়ায়,তখন সাধারণ মানুষ মনে করে যে, এদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে কোনো বিচার পাওয়া যাবে না, বরং উল্টো নিজেদেরই বিপদে পড়তে হবে। মাদকবিরোধী এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের যদি তাৎক্ষণিক ডোপ টেস্ট করা হতো, তবে অন্তত ৩০ শতাংশ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী হাতেনাতে ধরা পড়তো। ছদ্মবেশী এসব অপরাধীদের কারণে আসল মাদকবিরোধী আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনকে এই মাদক কারবারিদের চেয়েও আরো বেশি কৌশলী হতে হবে। কোনোভাবেই যেন মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা মাদকবিরোধী কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ চিহ্নিত মাদক কারবারিরা যখন মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত থাকে, তখন সাধারণ মানুষ ভয় পেয়ে যায়। ফলে তারা মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে তথ্য দিতে কিংবা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পায় না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদকের সাথে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।মাদকবিরোধী কোনো সামাজিক সভা বা সমাবেশে যদি কোনো চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারী অংশ নেয়, তবে স্থানীয়রা আমাদের তথ্য দেওয়া মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকাসক্ত ব্যক্তি পার পাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং এটি আরও জোরদার করা হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র