ঘোড়াঘাটে তাসপিয়া হত্যা মামলায় সৎ বাবা গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে নয় বছরের শিশু মাসফিকা আক্তার তাসপিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার সৎ বাবা সাফিউল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে তাসপিয়াকে নদীতে ফেলে হত্যা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে তাসপিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সাফিউল। তবে মাদ্রাসায় না নিয়ে রাতের আঁধারে নৌকায় করে তাকে করতোয়া নদীর মাঝখানে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে পানিতে ফেলে দেন তিনি। পরে মায়া হলে পানি থেকে তুলে শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে নেন। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে ঝগড়ার একপর্যায়ে আবারও শিশুটিকে নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাফিউল ঘোড়াঘাট উপজেলার ভর্ণাপাড়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। গত ১৭ আগস্ট রাতে রাণীগঞ্জ বাজার থেকে ভ্যানে করে কবিরপুর হয়ে গোবিন্দপুর ও পরে মুসিপাড়ার ঘাটে যান তিনি। সেখান থেকে নৌকায় করে করতোয়া নদীতে প্রবেশ করেন।
পুলিশের দাবি, রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে সাফিউল তাসপিয়াকে পানিতে ফেলে দেন। পরে শিশুটির মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু তাসপিয়া হত্যার ঘটনায় তার সৎ বাবা সাফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তাসপিয়ার বাবা বাদী হয়ে থানায় এজাহার দিয়েছেন। গ্রেপ্তার সাফিউলকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা