টাঙ্গাইলেে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কৃষি কার্ড পেয়ে উচ্ছাসিত কৃষক ও কৃষাণী

দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সরকার চালু করলো ‘কৃষি কার্ড’। ঐতিহাসিক এই কৃষক কার্ড পাওয়ার আনন্দে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে কৃষক কার্ড পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসিত কৃষক ও কৃষাণীরা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২ টা ২২ মিনিট টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে"কৃষক কার্ড" বিতরণের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় সত্তরভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য ও অধিকার পান, এই লক্ষ্যেই কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এই কার্ডের মাধ্যমিক নিশ্চিত হল ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, কৃষি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, ফসলের রোগ বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রির নিশ্চয়তা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৫ জন কৃষকের হাতে " কৃষক কার্ড " তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্ড তুলে দেওয়ার পরপরই সরকারপ্রধান ল্যাপটপে একটি বাটন প্রেস করেন, সঙ্গে সঙ্গে ২২ হাজার ৬৫ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক। এ কার্ডের মাধ্যমে তারা ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সুবিধা পৌঁছে যায়।
যাদের হাতে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড তুলে দেন, তারা হলেন- মোঃ আবু কাওসার, মোহাম্মদ রোমান, শাহানুর আলম, মোঃ শাহ আলম, জুলেখা আক্তার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, মোঃ নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মোছাম্মৎ মনোয়ারা আক্তার, শামীমা আক্তার, লায়লা বেগম ও তাহমিনা।
মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড ও ফলক বৃক্ষ নেয়ার পর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক শাহানুর আলম বলেন, দেশের প্রধান তার হাত থেকে কৃষি কার্ড পেয়েছি এর চেয়ে সৌভাগ্যের কিছু হতে পারে না। এ জন্য আমি খুবই আনন্দিত। আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি।এ কৃষি কার্ড দিয়ে আমরা কৃষকরা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা পাব। এতে আমাদের কৃষি এগিয়ে যাবে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রণোদনা পাব। এই প্রণোদনার টাকা দিয়ে আমাদের জমির সার,কীটনাশক ক্রয় করতে পারব।
কৃষাণী আমেনা বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কৃষক কার্ড পেয়ে আমি অনেক খুশি। কারণ এই সৌভাগ্য সবার হয় না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন এ রকম কার্যক্রম ইতিপূর্বে বাংলাদেশে হয়নি। আগামী দিনে আরো অনেক কিছু তার মাধ্যমে হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মোঃ শাহ আলম জানান, কার্ড পাওয়ার সাথে সাথে মোবাইলে আমার টাকা পৌঁছে গেছে। এটা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক কাজে লাগবে। তারেক রহমানের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘায়ু করুন।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় ৭০ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য ও অধিকার পান, এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হলো। পরে পাইলটিং ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৫ বছর সময় লাগতে পারে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ