পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত পেতে সন্তান নিয়ে দ্বারে দ্বারে গৃহবধূ

স্বামী হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন নড়াইলের নাছিমা খানম। চার বছরের কন্যাশিশুকে নিয়ে অন্ধকারে ডুবে যাওয়া এই নারীর এখন একমাত্র ভরসা বাবার বাড়ির পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু সেই সম্পত্তির ভাগ চাইতেই শিকার হচ্ছেন নানামুখী হুমকি–ধামকির।
নাছিমা জানান, ১৫ বছর আগে নড়াইল পৌরসভার বরাশুলা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় তাঁর। সংসারে এক কন্যাসন্তানের জন্মের কিছুদিন পরই মারা যান স্বামী। স্বামী হারানোর পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে বাধ্য হয়ে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।
বাড়িতে ফিরে বাবার সম্পত্তিতে ন্যায্য হিস্যা চাইতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নাছিমার অভিযোগ, তাঁর ভাইপোরা—খন্দকার নাইম হোসেন, খন্দকার আলী হোসেন, খন্দকার আজগার হোসেনসহ মানছুর মৃধা, মশিয়ার মৃধা ও গালিব মৃধা—তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি নাছিমার। ফলে নিরুপায় হয়ে কন্যাকে কোলে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ন্যায়বিচারের আশায়।
নাছিমা খানম বলেন, ‘আমি মহিলা মানুষ, থানাকোর্ট বুঝি না। আমার মেয়েকে নিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় আছি। বাবার বাড়ির পৈতৃক সম্পত্তি না পেলে আমাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। আমি শুধু আমার ন্যায্য অধিকারটা ফিরে পেতে চাই।’
নিষ্পাপ শিশুটিকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে নাছিমার। আর ন্যায্য প্রাপ্য ফেরত পেতে এখন তাঁর একমাত্র আকুতি—সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের সহায়তা।
ভোরের আকাশ/মো.আ.