উলিপুরে মাদরাসায় গোপনে নিয়োগের অভিযোগ, বোর্ডের লোকজনকে অবরুদ্ধ

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় নিরাপত্তাকর্মী, পিয়ন ও ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে গোপনে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোর্ডের লোকজন মাদরাসায় এলে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তাঁদের ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন পদে নিয়োগের বিষয়ে যথাযথ প্রচার না করেই প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁরা মাদরাসায় জড়ো হন। এ সময় বোর্ডের লোকজনের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাত লাখ টাকায় রফা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ঘটনার দিন নগদ এক লাখ টাকা এবং আগামী বুধবার বাকি ছয় লাখ টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, মাদরাসাটির আলিম শাখায় বিজ্ঞান বিভাগ চালু নেই। ফলে এ পদটির অনুমোদন, প্রয়োজনীয়তা ও নিয়োগের যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে আরও দুটি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান তিনটি নিয়োগসহ মোট পাঁচটি নিয়োগে প্রায় ৭০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে রবিবার (৪ অক্টোবর) মাদরাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ মোবাশ্বের রাশেদীনকে পাওয়া যায়নি।
ভাইস প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম জানান, অধ্যক্ষ তিন দিনের ছুটিতে আছেন। নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অন্য শিক্ষকরাও একই কথা বলেন।
মাদরাসার শিক্ষক প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে থাকা খালিদ সাইফুল্লাহ ও মহিবুল ইসলাম—আমরা কেউই নিয়োগের বিষয়ে কিছু জানি না।
বিদ্যোৎসাহী সহকারী অধ্যাপক নুরুন্নবী বাশার বলেন, এ নিয়োগের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের না জানিয়ে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তথ্য গোপন করে অর্থের বিনিময়ে অধ্যক্ষের ছেলে ও ভাগিনাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে অধ্যক্ষের দাবি, যথাযথ নিয়ম মেনেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষ মোবাশ্বে রাশেদীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়মনীতি মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে। শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে
ভোরের আকাশ/ এনউব