শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে বিচারাধীন প্রায় ৫০ লাখ মামলা, উদ্বেগ চট্টগ্রামের ডিসির

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন উচ্চ ও নিম্ন আদালতে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে আদালতের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার  নগরীর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয়’ বিষয়ক জেলা পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, বহু মামলা বছরের পর বছর আদালতে ঝুলে থাকে, ফলে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে এবং আদালতের মামলাজটও হ্রাস পাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ জনগণের জন্য সহজ, দ্রুত এবং কম খরচে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত জনবল এবং সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

গণশুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতি বুধবার অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের কাছে আসেন। এর অনেকগুলোই স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানযোগ্য ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতা বাড়লে মানুষের দুর্ভোগ আরও কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু সভা-সেমিনার বা পরিকল্পনা প্রণয়ন নয়, বাস্তব পরিবর্তন আনার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণ যেন প্রত্যাশিত সেবা পায় এবং সরকারি দপ্তরগুলো মানবিক ও সেবামুখী পরিবেশে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে তিনি জোর দেন। তিনি এমন একটি নিরাপদ, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে কোনো নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসা’র পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু শ্যামলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম আনোয়ার ভূঁইয়া।

স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প’-এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন। সভায় চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ১৯১টি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

নড়াইলে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই সহোদরের মৃত্যু

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন বলেন, গ্রাম আদালতের সেবা জনগণের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালতের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা খুবই কম বা শূন্য, বিশেষ করে মিরসরাইয়ের কয়েকটি ইউনিয়নের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জনগণের আস্থা অর্জন এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মামলার নথিপত্র, রেজিস্টার এবং প্রশাসনিক রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।

উদ্বেগ

শেয়ার করুন: