জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ‘সাঁড়াশি’ অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা ও নেটওয়ার্ক নির্মূল করতে বিশাল পরিসরে সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর অন্তত দেড় হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাত ৪টা থেকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে এই অভিযান শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ ছোটপুল পুলিশ লাইন্স থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সিএমপির ৮০০ এবং রেঞ্জ পুলিশের ৭০০ সদস্যের পাশাপাশি যৌথবাহিনীতে যুক্ত রয়েছেন র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। ভোর হওয়ার আগেই পুরো এলাকার সবগুলো প্রবেশপথ ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করা হয়। এই অভিযান মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল এশিয়া পোস্টকে বলেন, অভিযান চলছে। অভিযানের বিষয়ে পরে জানানো হবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণ করা ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ ও রিদোয়ান গ্রুপের আস্তানাগুলোও এই অভিযানের নিশানায় রয়েছে। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় তালিকাভুক্ত অনেক সন্ত্রাসী এখানে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দূরত্বে বায়েজিদ লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩১০০ একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটি অপরাধীদের কাছে ‘নিরাপদ স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বসতি গড়েছেন। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ হিসেবে পরিচিত।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয় র্যাব। সে সময় সন্ত্রাসীরা র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে, সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। ওই হামলায় র্যাব-৭ এর উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং আরও তিনজন সদস্য গুরুতর আহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের দমনে এমন একটি বড় আকারের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল সরকার।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, যৌথবাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে তল্লাশি শুরু করেছেন। বিশাল এই বাহিনীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র