পরকীয়া সন্দেহে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর স্বীকারোক্তি

খুলনায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড রহস্য উম্মোচন। ২২ বছর আগে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে মুসলিম মেয়ে বিয়ে করে একই এলাকায় দীর্ঘ বাইশটি বছর এক ঘরের নীচে কাটিয়ে দেওয়া এক দম্পতির কথা বলছি।
পরকীয়া সন্দেহে স্বামী মোহর আলী শেখ ওরফে নুর আলী (সিরাজ)কে হত্যা করে হোসনে আরা বেগম ওরফে পুতুল। শনিবার এমন তথ্য জানিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে সে। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক অপুর্ব সাহা তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপসা থানার এসআই আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার দিন রাতে মৃত ব্যক্তির ছেলে থানায় মামলা দায়ের করেন। রাতে উপজেলার রামনগর এলাকায় তার ফুফুর বাড়ি থেকে পুতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, নুর আলী ২২ বছর আগে হিন্দু থেকে মুসলমান হয়ে পুতুলকে বিয়ে করেন। এর আগে আসামির পূর্বের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। তাকে বিয়ে করার পর থেকে নুর আলী শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করেন। বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া বাজারে একটি মিষ্টির দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করত। প্রায়ই সময়ে তাদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলহ বিরোধ লেগে থাকত। পুতুল প্রায় ছেলে শুকুরকে বলত তোর বাবা পরকীয়া করে এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিত।
তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টার দিকে ছেলেকে মিষ্টি খেতে দিয়ে নুর আলী রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ঘুম থেকে তার মাকে বাইরে যেতে দেখে। পরবর্তীতে জামাই কাইয়ুম হোসেন সাইকেল আনতে গিয়ে চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা নুর আলীর ঘরে উপস্থিত হয় এবং রক্তাক্ত মরদেহ বিছানার ওপর দেখতে পায়। পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তার গলায় একাধিক কোপের আঘাত ছিল।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পরপর সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে বসুপাড়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয় পুতুল। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে উপজেলার রামনগর গ্রামে ফুফু বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করে। খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয়। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরিবারের অন্য কেউ জড়িত নয় বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছে পুতুল।
ভোরের আকাশ/এনএস