সিলেটে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী

সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে নগরবাসীর মধ্যে। বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশে মশার উৎপাত কমাতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নাগরিকেরা। তাঁদের প্রশ্ন—মশার বংশবিস্তার রোধে নিয়মিত ওয়ার্ডভিত্তিক অভিযান এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে?
নগরবাসীর অভিযোগ, মশার উপদ্রব থেকে স্বস্তি পেতে নিয়মিত মশকনিধন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং যেখানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু সচেতনতামূলক বক্তব্য নয়, মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখতে চান তাঁরা।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। সিসিকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর নগর ভবনে পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশকনিধন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবে কতটা মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, কোন ওয়ার্ডে কতবার ওষুধ ছিটানো হয়েছে এবং মশার লার্ভা ধ্বংসে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য পানির উৎস পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম চালানো গুরুত্বপূর্ণ।
নগরবাসীর দাবি: নগরবাসীর প্রত্যাশা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ডভিত্তিক মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করবে, ড্রেন-নালা পরিষ্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং নিয়মিত অভিযানের তথ্য প্রকাশ করবে। একই সঙ্গে মশার উপদ্রব নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে নগরবাসীর প্রশ্ন—মশার উপদ্রব কমাতে চলমান কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতি কী এবং আগামী দিনে এ সমস্যা মোকাবিলায় কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে?
নগরবাসীর প্রত্যাশা, আশ্বাসের পাশাপাশি কার্যকর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সিলেটকে মশার উপদ্রব থেকে স্বস্তি দেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ এনউব