শার্শা
উলাশীতে জিয়া খাল পুনঃখননের জোর দাবি

ফসল উৎপাদনের সক্ষমতা ফেরাতে জলবদ্ধতা নিরসনে যশোরের শার্শার উলাশীতে জিয়া খাল পুনরায় খননের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার - অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার এ শ্লোগান দিয়ে ১৯৭৬ সালে পহেলা নভেম্বর জিয়াউর রহমান নিজ হাতে এই খালটি খনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে প্রায় ২৬ হাজার কিলোমিটারের ১৫০০টির বেশি খাল খনন করেছিলেন। তবে পরবর্তী কয়েক যুগ খালটি খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়েএখন প্রায় মৃত।
খালটি ভরাট হয়ে নাব্যতা হারানোয় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং চাষাবাদে ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জানা যায়, মুক্তি যুদ্ধ পরবর্তী দেশে মারাত্বক খাদ্য সংকটের মুখে পড়ে। এ অবস্থায় ফষল উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে খাদ্য শষ্যে সয়ংসম্পূর্ন করতে তিনি সারা দেশে খাল খনন কর্মসুচী হাতে নেয়।
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীতে খাল খননের মধ্য দিয়ে সারা দেশে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ শুরু করেন। নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে খাদ্যের বিনিময়ে খাল খননে অংশ নেয় এলাকার মানুষেরা। এতে পানি নিষ্কাশন ও সরবরাহের সুযোগ পেয়ে শার্শার উলাশীতে প্রায় ২২ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি ফসল উৎপানের সক্ষমতা ফিরে পায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশ খাদ্য শষ্যে সয়ং সয়ংসম্পূর্ন হয়ে ওঠে।
তবে পরবর্তীতে খাল খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়ে আবারও ফষলের জমি জলবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। বছরের ৬ মাস শার্শা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে পানি জমে থাকায় খাদ্য উৎপাদন কমে এসেছে। এ অবস্থা উত্তরনে এ অঞ্চলের মানুষ দির্ঘদিন খালটি পূণখননের দাবি জানালেও কাজে আসেনি।
গেল ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে জনসভায় আসেন তারেক রহমান। এসময় তিনি এলাকাবাসীর দাবির মুখে বলেন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে ঐতিহাসিক উলাশী খাল আবারও আপনাদের সাথে নিয়ে খনন করা হবে। নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠ নিয়ে প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনায় কাজ শুরু করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। এলাকাবাসির দাবি তিনি তার বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে দ্রুত উলাশী খাল খননে হাত দিবে।
জিয়াউর রহমানের সাথে খান খনন কর্মসুচীতে অংশ নেওয়া উলাশী গ্রামের আব্দুল বারিক মন্ডোল জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খালটি খনন করা হয়েছিল। তিনি ১৯৭৬ সালের পহেলা নভেম্বর উলাশীতে এসে নিজ হাসে বিসমিল্লাহ বলে মাটি কেটে আমাদের মাথায় তুলে দেন। এর পর কেবল খাদ্যের বিনিময়ে আমরা খাল খনন শেষ করি। এতে অনাবাদি জমি ফসল উৎপাদনের পরিবেশ ফিরে পায়।
তখন এটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। খালটি সচল থাকায় কৃষি উৎপাদনও ছিল ভালো। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে খালটি প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। খালটি পুনঃখনন করা হলে শুধু জলাবদ্ধতা দূর হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং মৎস্য চাষের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। এতে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
শার্শা উপজেলা কৃষক দলের আহবাহক আমিরুল ইসলাম জানান, জিয়া খাল এক সময় আমাদের এলাকার প্রাণ ছিল। বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেত, জমিতে পানি দাঁড়িয়ে থাকত না। এখন খাল ভরাট হয়ে গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে।জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো বীজতলা করা যায় না। ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। খালটি পুনঃখনন হলে আমরা অনেক উপকৃত হবো।
শার্শা উপজেলা যুব দলের আহবাহক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, উলাশী খাল এ অঞ্চলে জিয়াউর রহমানের একমাত্র স্মৃতি। সাম্প্রতি নির্বাচনী জনসভায় যশোরে এসে তারেক রহমান ঘোষণা দেন তার দল ক্ষমতায় এলে উলাশীর জিয়া খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার এই ঘোষণার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়।
এখন তারেক রহমান দেশের প্রধান মন্ত্রী। আমরা আশা করছি তিনি দ্রুত তার দেওয়া কথা রাখতে খালটি পুনরায় খনন করে এলাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে ভুমিকা নিবেন।
ভোরের আকাশ/ র.ই