দরিদ্র কৃষক আবু ছায়েদের আক্ষেপ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার কৃষক আবু ছায়েদ (৫৩) একজন হতদরিদ্র সাধারণ কৃষক। বন্ধুদের সাংসারিক জীবনে নানান ঝামেলা দেখে তিনি সংসারবিমুখ হয়ে চিরকুমার রয়েছেন। একাই নিতান্ত সাদামাটা জীবনযাপন করছেন একাকীত্ব নিয়ে। জীর্ণশীর্ণ শরীর নিয়ে নিজেই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তিনি উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।
একটি সাইকেলের অভাবে ১০–১৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গ্রাম থেকে কৃষিপণ্য উপজেলা সদরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হয় তাকে। অভাবের কারণে একটি বাইসাইকেল কিনতে পারছেন না। ফলে কষ্ট নিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে কৃষক আবু ছায়েদের। দানশীল মানুষের কাছে তার একটিই চাওয়া একটি বাইসাইকেল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সামান্য জমিতে তিনি বিভিন্ন ধরনের তরকারি ও শাকসবজি চাষ করেন। এগুলো মাঝেমধ্যে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। যানবাহনে করে উপজেলা সদরে আনতে তার খরচ হয় ৫০–৬০ টাকা, অথচ মোট বিক্রি হয় ১০০–১৫০ টাকা। তাই খরচ বাঁচাতে তিনি পায়ে হেঁটেই বাজারে আসেন। এভাবেই কোনোরকমে দিনাতিপাত করছেন। অভাবে থাকলেও কখনো মানুষের কাছে হাত পাতেন না। সরলমনা মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, কৃষক আবু ছায়েদ সাদাসিধে প্রকৃতির মানুষ। গ্রামে তার একাকী জীবনযাপন। নিজের পরিশ্রমে কৃষিকাজ করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন। শাকসবজি নিয়ে বাজারে যেতে তার অনেক কষ্ট হয়। মাঝেমধ্যে গাড়িতে গেলে ভাড়ার পেছনেই সবজি বিক্রির টাকা খরচ হয়ে যায়।
কৃষক আবু ছায়েদ বলেন, “বাজারে যা কিছু আনি, তা বিক্রি করে শুধু খাবারের খরচটাই ওঠে। একটি সাইকেল থাকলে আমার কষ্ট হতো না। অল্প কিছু শাকসবজি নিয়ে যাই কখনো বিক্রি হয়, কখনো হয় না। যদি কেউ একটি সাইকেল দিয়ে সহযোগিতা করতেন, তাহলে আমার কষ্টটা কিছুটা কমতো।
ভোরের আকাশা/এনউব