ইবির বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনজন নতুন প্রভাষক যোগদান করেছেন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যোগ দিয়েছেন তিনজন নতুন প্রভাষক। তাঁরা হলেন মো. আবু সাঈদ, আফিয়া মুবাশারাহ ও সাথী রহমান। তাঁদের যোগদানের ফলে বিভাগে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটাই নিরসন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে বিভাগটিতে মাত্র চারজন স্থায়ী শিক্ষক থাকায় পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময় বাইরের বিভাগ থেকে গেস্ট টিচার এনে ক্লাস নিতে হতো। এতে নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব কার্যক্রম ও গবেষণা তদারকিতে কিছুটা সীমাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছিল। সম্প্রতি তিনজন নতুন প্রভাষক যোগ দেওয়ায় শিক্ষক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে, ফলে গেস্ট টিচারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন যোগ দেয়া ৩ প্রভাষক-
মো. আবু সাঈদ ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায়।
তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।তার গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়োমেডিকেল সিগন্যাল প্রসেসিং, ইমেজ প্রসেসিং এবং হেলথকেয়ারে মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগ।
আফিয়া মুবাশারাহ ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায়।
তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। যোগদানের আগে তিনি বুয়েটে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তার গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়োম্যাটেরিয়ালস, মলিকুলার বায়োলজি ও বায়োইনফরমেটিক্স, ড্রাগ ডিজাইন অ্যান্ড ডেলিভারি।
সাথী রহমান ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার হরিনারায়ণপুর থানার পদ্মনগর এলাকায়।তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীবপ্রযুক্তি ও জীন প্রকৌশল বিষয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্র হলো ন্যানোটেকনোলজি, বায়োম্যাটেরিয়ালস ও টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং।
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে মো. আবু সাঈদ বলেন, “স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং আগামী দিনের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে সক্ষম।”
বিভাগ নিয়ে তাঁর ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় পর্যায়ে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি উন্নয়ন, সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে এই বিভাগ স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নের একটি কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। আধুনিক গবেষণা ও হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যাভিত্তিক চিন্তাশীল উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আফিয়া মুবাশারাহ বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যুক্ত হতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতমুখী, গবেষণাভিত্তিক ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভাগের একাডেমিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে চান।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় সাথী রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; বরং এটি নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।”
তিনি জানান, তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।বিভাগের শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষক নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক সংখ্যা বাড়ায় আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকে বেশি সময় ও সহযোগিতা পাব। এতে আমাদের শেখার আগ্রহ আরও বাড়বে।”
তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা তাসমি বলেন, “আগে শিক্ষক কম থাকায় অনেক সময় গেস্ট টিচার দিয়ে ক্লাস নিতে হতো। এখন স্থায়ী শিক্ষক বাড়ায় নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাব কার্যক্রম আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।”
চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী সেলিম খান বলেন, “নতুন শিক্ষকদের গবেষণার ক্ষেত্রগুলো আমাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এখন আমরা আরও গভীরভাবে গবেষণায় যুক্ত হতে পারব।”
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “এর আগে আমাদের বিভাগে মাত্র চারজন স্থায়ী শিক্ষক থাকায় পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বিভিন্ন সময় গেস্ট টিচারের সহায়তা নিতে হয়েছে। এটি প্রয়োজনীয় হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিভাগের জন্য স্থায়ী শিক্ষকসংখ্যা বাড়ানো ছিল জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “তিনজন নতুন প্রভাষক যোগদানের ফলে শিক্ষক সংকট অনেকটাই নিরসন হয়েছে এবং গেস্ট টিচারের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব ও গবেষণা কার্যক্রম আরও পরিকল্পিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”
ভোরের আকাশ/তা.কা