শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সীতাকুণ্ডে বাড়ছে হাতপাখার কদর

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৫ মে ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

সীতাকুণ্ডের গ্রাম-বাংলার কুটির শিল্পের অন্যতম একটি অংশ তালপাতার পাখা। এক সময় গ্রীষ্মের তীব্র গরমে হাতপাখা তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো সীতাকুণ্ডের গ্রামাঞ্চলের কয়েকশ পরিবার। 

তখন এয়াকুনগর, পন্থিছিলা, মহাদেবপুর, কেদারখীল, মীরেরহাট, বহরপুর, টেরিয়াইল, ফেদাইনগর, মহানগর, বগাচতর, বাড়বকুণ্ড, অলিনগর ও বাঁশবাড়ীয়ার কয়েকশ পরিবারের অন্যতম পেশা ছিল তালপাতার পাখা তৈরি ও বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রয়। 

সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী বলেন, সীতাকুণ্ডে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক শিব-চতুদর্শী মেলাসহ স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে শোভা পেতো তালপাতার তৈরি হাতপাখাসহ নানান হস্তশিল্প। চৈত্র মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত চলতো তালপাতার পাখা তৈরি ও বিক্রির ধুম। 

কিন্তু বর্তমানে ঘরে-ঘরে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহার, প্লাষ্টিকের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের হাতপাখার প্রচলন এবং তালপাতার পাখা তৈরির সেই ঐতিহাসিক তালগাছ হারিয়ে যাওয়ায় গ্রাম-বাংলার সুপরিচিত শোভা ও ঐতিহ্যের তালপাতার এই হাতপাখা আজ শুধুই স্মৃতি। পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড থেকে সমাজসেবক মো. ইফতেখার উদ্দিন বলেন, এক সময় গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিক পাখার তেমন একটা প্রচলন ছিল না। হাতে গণনা কতেক পরিবারে টেবিল ফ্যান দেখা যেতো। 

তীব্র গরমের কারনে মানুষ তখন মাটির ঘর তৈরিতে প্রাধান্য দিতো। তখন গ্রীষ্মের প্রখর রোদ কিংবা তীব্র গরম হতে স্বস্তি পেতে তালপাতা কিংবা বাঁশ বেতের তৈরি হাতপাখার উপর নির্ভর করতো শ্রমজীবি পরিবারগুলো। হাট-বাজারে প্রচুর বিক্রি হতো তালপাতার পাখা। 

কিন্তু এখন সেদিন আর নেই। সীতাকুণ্ড কলেজ রোডে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তালপাতার হাতপাখা ব্যবসায়ের সাথে জড়িত রাহুল ভট্টাচার্য জানান উপজেলায় তালপাতার হাতপাখা তৈরির সেই কুঠির শিল্প হারিয়ে গেলেও চাহিদা এখনও শেষ হয়ে যায় নি। এখনও দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ টি তালপাতার পাখা বিক্রি করছি। মেলার সময় ১০০ থেকে ১৫০ পর্যন্ত হাতপাখা বিক্রি হয়েছে। 

আরও পড়ুন

৬ অঞ্চলের নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত

সীতাকুণ্ডে চাহিদা মতো তৈরি না হওয়ায় সপ্তাহে চট্টগ্রামের লালদীঘি থেকে প্রায় ৪০০ হাতপাখা দোকানের জন্য ক্রয় করছি। সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, তালগাছের পাতায় বাসা তৈরি করে অবস্থান করা বাবুই পাখির সেই কিচির-মিচির শব্দের চিরচেনা দৃশ্যের মতো আজ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার শোভা ও ঐতিহ্যের তালপাতার পাখা। 

এক সময় সীতাকুণ্ডের পরিচিত হস্তশিল্পগুলোর অন্যতম ছিল তালপাতার পাখা। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো তখন চৈত্র মাস থেকে নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে হাতপাখা তৈরির কাজ অগ্রিম শুরু করতো। তখন আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবারগুলো অপেক্ষাকৃত স্বচ্চল আত্মীয়-স্বজন কিংবা নিকট প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অগ্রিম পাখা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় টাকা ধার নিতেন। আর মৌসুমের শুরুতেই সেই দেনা পরিশোধ করে নিতে সমর্থ হতো কুটির শিল্পের সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো। বর্তমানে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ আর তীব্র গরমে বাড়ছে হাতপাখার কদর।

ভোরের আকাশ/আ.র
 

হাতপাখার কদর

শেয়ার করুন: