টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর ২ শ্রীলঙ্কান জেলে উদ্ধার

এক-দুদিন কিংবা এক সপ্তাহ নয়—টানা ৩৬ দিন গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় কাঁচা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করেছেন শ্রীলঙ্কার দুই নাগরিক।
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের একদল জেলের মানবিকতায় নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন তারা।
উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি সম্পর্কে বাবা-ছেলে। তারা শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক উপকূলীয় শহর দেবিনুওয়ারা (Devinuwara)-এর বাসিন্দা। তাদের নাম এসএস সামিন্দা (SS Saminda) ও পিএসএসএন (PSSN) বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকারী ফিশিং বোটের মালিক ও মাঝি জিয়াউর রহমান জানান, গত ২৩ জুলাই গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার পর ২৪ জুলাই একটি বিকল ও দুর্ঘটনাকবলিত নৌকায় দুই ব্যক্তিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান।
পরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের নিজ বোটে তুলে নেন। উদ্ধার হওয়ার পর নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ওই দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিক তাদের পরিবারের সদস্য এবং শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
জিয়াউর রহমান আরও বলেন, উদ্ধারকৃত দুই ব্যক্তিকে তিনি নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কান দূতাবাস, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জিয়াউর রহমানের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। কিন্তু দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিককে উদ্ধারের পর তিনি আর মাছ ধরতে না গিয়ে সরাসরি তীরে ফিরে আসেন। ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা সরকারের কাছে তার এই মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতি এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সোলতান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার হওয়া দুই নাগরিকের খোঁজখবর নিয়েছে।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং সরকারিভাবে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ভোরের আকাশ/রই