পীরগঞ্জে গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে অর্থ দাবির অভিযোগ

রংপুরের পীরগঞ্জে এক গৃহবধূকে পথরোধ করে গাছবাগানে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা এবং ব্যর্থ হয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগটি উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের শরিফেরপাড়া গ্রামের ঘটনা বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট রাতে ওই গৃহবধূ তাঁর স্বামী ও প্রতিবেশী আবদুল হালিম মিয়ার সঙ্গে কুমেদপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাঁর স্বামী কাঁচা মরিচ কেনার জন্য আবার বাজারে ফিরে যান। পরে গৃহবধূ আবদুল হালিমের সঙ্গে বাড়ির দিকে রওনা হন।
রাত সোয়া ৯টার দিকে তারেক মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেন এবং আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে আবদুল হালিম কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে ওই গৃহবধূকে একটি গাছবাগানে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি চিৎকার করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁর পরনের কাপড় খুলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর স্বামীর কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ আগস্ট ভোরে তাঁর স্বামীকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে থানায় না যাওয়ার শর্তে ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামীর কাছে তুলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—কুমেদপুর গ্রামের খট্টু রহমানের ছেলে তারেক মিয়া (২২), নজরুল ইসলামের ছেলে নাঈম মিয়া (২০), চণ্ডীপুর গ্রামের শহিদুল রহমানের ছেলে বাবু মিয়া (২৩), শরিফেরপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে মিরাজুল মিয়া (২৪) এবং জাহিদুলের ছেলে হিমেল মিয়া (২১)।
তবে অভিযুক্তরা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ওই গৃহবধূ ও আবদুল হালিমকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবস্থায় দেখে তারা বাধা দিয়েছেন। সমাজকে ভালো রাখার উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে ছিলেন দাবি করে অভিযুক্তরা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে এবং তারা ষড়যন্ত্রের শিকার।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ