শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে কচ্ছপের মৃত্যুর মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশ : ৩ মার্চ ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে গেল দুই মাসে অন্তত ৭০ টি মৃত কচ্ছপ ভেসে এসেছে। মৃত কচ্ছপের প্রায় সবার পেটেই  ডিমের অস্তিত্ব ছিল । বালিয়াড়িতে পড়ে থাকা প্রায় কচ্ছপের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান , বড় ট্রলার ও ট্রলিং জাহাজের আঘাত এবং মাছ ধরার জালে আটকে শ্বাসরোধই কচ্ছপ মৃত্যুর প্রধান কারণ। জেলে আহমেদ কবির  বলেন, জালে আটকে পড়লে অনেক সময় কচ্ছপের পাখা কেটে ফেলা হয়; দুর্বল হয়ে তারা কূলে এসে মারা যায়। 

আরেক জেলে মনির আহমেদ জানান,  গত এক সপ্তাহে সাগরে শতাধিক মৃত কচ্ছপ ভাসতে দেখা যায়। বড় ট্রলারের জালে আটকে শ্বাস নিতে না পেরে মারা যাওয়ার ঘটনাই বেশি।

গত চার বছর ধরে সোনারপাড়ায় কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণে কাজ করা স্থানীয় যুবক নবী হোসেন জানান, এক সপ্তাহে প্রায় ২০টি মৃত কচ্ছপ কবর দিতে হয়েছে। মৃত কচ্ছপ খোলা অবস্থায় ফেলে রাখলে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়,  ডিম পাড়তে এসে একের পর এক মা কচ্ছপ প্রাণ হারাচ্ছে।

রেডিয়েন্ট রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার–এর গবেষক মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, গত দুই মাসে ৬০ -৭০টি মৃত কচ্ছপ উপকূলে ভেসে এসেছে। বিশেষ করে সোনাদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত , টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ এলাকায় ঘটনা বেশি।

 তিনি জানান , গত বছর মৃত কচ্ছপ উদ্ধারের সংখ্যা ছিল ২০০ এর বেশি। ডিম পাড়ার মৌসুমে জালে আটকা পড়া বা ট্রলারের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়াই প্রধান কারণ। আইন প্রয়োগ, মোবাইল কোর্ট ও জেলেদের সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি। 

পরিবেশ অধিদফতর  কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সামুদ্রিক কচ্ছপ সমুদ্রের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কচ্ছপ মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে যা গভীর উদ্বেগের। বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট–এর গবেষণাতেও প্রতিবছর মৃত কচ্ছপের সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে।

সোনাদিয়া দ্বীপে একটি সংরক্ষণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে একাধিক হ্যাচারি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়ায় অন্তত দুটি স্থানে ডিম নিরাপদে সংরক্ষণ ও ফুটানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি একজন গার্ড নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গবেষক ও পরিবেশকর্মীদের মতে, সামুদ্রিক কচ্ছপ টিকে থাকলে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় থাকে, জেলিফিশের আধিক্য কমে এবং মাছের উৎপাদন বাড়ে—দীর্ঘমেয়াদে যা জেলেদেরই উপকারে আসে। তাই সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা এই তিন পথেই মিলতে পারে কচ্ছপ রক্ষার সমাধান।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

কচ্ছপ উদ্ধারমনির আহমেদ

শেয়ার করুন: