শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঝালকাঠিতে বোরো ধান তলিয়ে গেছে কালবৈশাখীর ঝড়ে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

চলতি মৌসুমে ঝালকাঠি জেলায় ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯২ হেক্টরের ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। 

তবে মৌসুমের শেষ সময়ে কালবৈশাখী ঝড় ও ২ দিনের বৃষ্টি সাথে নদীতে অতিরিক্ত পানির চাপে অনেক এলাকার ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়া ও হেলে পড়ার ঘটনায় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, বর্তমানে জেলায় ৯টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে এবং দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে বোরো ধানের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি মুগ, মরিচসহ অন্যান্য ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কৃষি বিভাগ জানায়,ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় বোরো আবাদ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবে বিরূপ আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

এদিকে মৌসুমজুড়ে ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিও কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় অনেক ক্ষেতেই সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আবার বেশি দামে ডিজেল কিনতে হওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে বলে জানান কৃষকরা।

মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে আধাপাকা ধান ঝড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও জমে থাকা পানির নিচে ডুবে আছে ফসল। এতে কৃষকের সম্ভাব্য ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নতুল্লাবাদ ইউনিয়নের হরিপাশা গ্রামের কৃষক মো. মোসলেম হাওলাদার বলেন, তিনি অতিবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিনি জানান, ব্রি ধান ৭৪ জাতের ১৬০ শতক এবং হাইব্রিড ময়না ও টিয়া জাতের ১২০ শতক জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধানগাছ ভেঙে পড়ায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কৃষক মোসলেম হাওলাদার আরও বলেন, এ বছর উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেশি ছিল, তার ওপর ডিজেলের সংকট ও অতিবৃষ্টির কারণে পুরো চাষাবাদে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

নলছিটি উপজেলার শীতলপাড়া এলাকার কৃষক মামুন হোসেন জানান, ৩ হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ধান আবাদ করেছিলেন তিনি।সেচ দিতে অনেক কষ্ট হয়েছে, তেল ঠিকমতো পাওয়া যায়নি। এখন আবার বৃষ্টিতে জমি পানিতে ডুবে গেছে। সব মিলিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি,বলেন তিনি।

পরমপাশা এলাকার কৃষক সবুজ খান বলেন,৪ কুড়া জমির ধান ঝড়ে শুয়ে গেছে, অনেক জায়গায় পানির নিচে। এবছর খরচই বেশি ছিল, এখন এই ক্ষতিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আহম্মদ বলেন, যেসব জমির ধান পরিপক্বতার কাছাকাছি পৌঁছেছে, সেগুলো দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগ নিয়মিত তদারকি করছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

নলছিটি উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রুবেল মৃধা জানান,মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দ্রুত ধান কাটা ও পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সিদ্ধিরগঞ্জে লুট হওয়া শর্টগানের গুলি উদ্ধার

কৃষি বিভাগ বলছে, এবছর শ্রমিক সংকট তেমন না থাকলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে বিলম্বে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ডিজেল সংকট এবং মৌসুমের শেষ সময়ে কালবৈশাখীর আঘাতে ঝালকাঠির কৃষকেরা এবার লাভের বদলে ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

কালবৈশাখী ঝড়মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর

শেয়ার করুন: