শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লায় তাল গাছ নিধণে বাড়ছে ব্রজপাতের ঝুঁকি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

কুমিল্লার বৃহত্তর লাকসাম উপজেলায় এককালের গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী রসের খনি খ্যাত তাল গাছ বর্তমানে কালের আবর্ত্তে  হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ তাল গাছ খাল-বিল, পুকুর, নদীর পাড়সহ বাড়ীর আঙ্গিনায় দেখা যেতো। তালগাছ প্রকৃতির বন্ধু হিসাবে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানে না। 

তবে  বিগত সরকার কৃষি, প্রকল্প দপ্তর ও বন বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে তালগাছ রোপন ও সংরক্ষনে ব্যাপক উদ্যোগ নিলেও ৫ই আগষ্টের পর যেন লাল ফিতায় বন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের সবগুলো উপজেলায় রসালো ফল তাল গাছ নিধণে বাড়ছে ব্রজপাতের ঝুঁকি।  

কবিরা লিখেছেন, তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উকি মারে আকাশে.., ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ওই আমাদের গাঁ, ওখানেতে বাস করে কানা বগার ছাঁ। এ অঞ্চলে সাধারনত পুরুষ ও স্ত্রী প্রজাতি দু’ধরনের তাল গাছ পাওয়া যেতো। স্ত্রী প্রজাতির তাল গাছে নানা ধরনের ছোট-বড় বিভিন্ন রংয়ের তাল ধরতো। আর পুরুষ প্রজাতির তাল গাছে তালের পরিবর্তে ছোট ছোট দানাওয়ালা লম্বা-গোলাকার এক প্রকার ছড়া বের হতো। যাকে গ্রাম্য ভাষায় তাল গাছের জট বলা হতো। গ্রীস্মের শেষে এবং চলমান শরৎকাল ও শীতকালে ওই তাল গাছের জট বিশেষ পদ্ধতিতে গাঁছিরা কেটে রস সংগ্রহ করতে দেখা যেতো। প্রাকৃতিক দূযোর্গ, বন্যা, জলাবদ্ধতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও নানাহ সংকটের কারনে মানুষ এখন আর তাল গাছের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। 

গ্রামগঞ্জে রসালো ফল এ তালের রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরী করে হরেক রকম পন্য উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে বিক্রি হতো। তবে তালপাটালি গুড় ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি জাতীয় খাবার। এ রসে আবার কেউ কেউ তাল মিছরি বানাতো যা বিভিন্ন রোগের ঔষুধের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার হতো। জৈষ্ঠ্য-আষাঢ়, শ্রাবন-ভাদ্র মাসজুড়ে কাঁচা তালের ভিতরের রসালো শ্বাশ খেতে খুবই সু-স্বাদু। 

তবে ভাদ্র মাস জুড়ে শিশু-কিশোরসহ সকল বয়সী মানুষের কাছে মৌসুমী ফল পাঁকা তাল মজাদার খাবার হিসাবে পরিচিত। এ পাঁকা তাল থেকে তৈরী করা হয় অত্যান্ত রুচিকর নানা ধরনের পিঠা,পায়েস ও বড়া। আবার এ তাল গাছ রন্ধনশালার জ্বালানী ও বসতঘরসহ দোকান-পাট তৈরীতে কাঠ হিসাবে বিভিন্ন সরঞ্জামে ব্যবহৃত হতো। গ্রাম-গঞ্জে কৃষকের লাঙ্গলের ঈশ, নৌকার বৈঠা, পানির তোলার দোন এবং জেলেদের মাছ ধরার ডোঙ্গা ও নৌকাসহ অন্যান্য কাজেও প্রতিনিয়ত এ তাল গাছ ব্যবহার  হয়ে আসছে।

 তালপাতা দিয়ে তৈরী হতো হাতপাখা ও শীতল পাটি অথচ প্রয়োজনীয় এ সম্পদ সংরক্ষনের অভাবে কালের আবর্ত্তে আজ ওই তালগাছ অস্তিত্ব সংকটে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ওইসব পন্য। এখন আর আগের মত তাল গাছ দেখা যায় না। এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও তালগাছ রোপন ও সংরক্ষনে তেমন সচেতনতা নেই। 

তবে বিগত সরকার এ রসালো ফল তাল গাছ রোপন ও সংরক্ষনে স্থাণীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে জনকল্যান মূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার নির্দেশ দিলেও তা আজ লাল ফিতায় বন্দি। 

এ ব্যপারে নাম জানাতে অনচ্ছিুক উপজেলা প্রশাসনের একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তারা জানায়, বিগত সরকার শাসন আমলে একবার তাল গাছ সংরক্ষনে উদ্যোগ নিলেও নানাহ কারণে আজ ওই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে না। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে প্রকল্প দপ্তরের মাধ্যমে সামাজিক বনায়নে একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। 

ভোরের আকাশ/আ.র
 

তাল গাছ নিধণ

শেয়ার করুন: