জালকুড়ি এলাকায় হেলে আছে বিদ্যুতের খুঁটি, দুর্ঘটনার শঙ্কা

নারাযণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি তালতলা খালপাড় সড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি প্রায় এক বছর ধরে হেলে আছে। কিন্তু এত দিনেও সেই খুঁটি সোজা বা প্রতিস্থাপন করার কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুত বিভাগ। খুঁটিটিতে রয়েছে ১১ হাজার হাইভোল্ট ও ৪১৫ ভোল্টের চালু সঞ্চালন লাইন। খুঁটি পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই খুঁটিটি যেন হাজারো পথচারীর জন্য এখন মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে। তারা জানান, বৃষ্টির দিনে খালপাড়ের মাটি নরম হয়ে গোড়ার মাটি সরে গিয়ে খুঁটিটি হেলে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সরাসরি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হেলে পড়া এই খুঁটিটির পাশ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। আশেপাশে একটি মাদ্রাসা, একটি স্কুল এবং একটি মসজিদ থাকার কারণে শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
একই রকম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে একই এলাকার তালতলা পরশ মোল্লা বাড়ির সাথে ভেঙে যাওয়া সঞ্চালন লাইনের লোহার খুঁটিটি। ব্যস্ততম জালকুড়ি টিসি রোডের পাশে হওয়ায় ভেঙ্গে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ লোহার এ খুঁটিটি দীর্ঘ দিন ধরে কোন ভাবে ঝুলে আছে। সঞ্চালন লাইনের খুঁটিগুলো কোথাও স্টিলের ও সিমেন্টের ঢালাই করা। স্থানীরা আশঙ্কা করছেন, ঝড় বৃষ্টির দিনে ভেঙে যাওয়া খুঁটি সড়কের উপর পড়ে গেল যে কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পাড়ে।
জালকুড়ি জামে মসজিদের সভাপতি মিজানুল ইসলাম বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। তাঁর বাড়ির সামনে ১১ হাজার হাইভোল্টের ও ৪৪০ ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের খুঁটিটি খালের পাড়ের মাটি সরে গিয়ে হেলে পড়েছে কিন্তু এখনো তা মেরামত করা হয়নি। স্থানীরা আশঙ্কা করছেন, সামনে ঝড় বৃষ্টির দিন আসছে। হেলে যাওয়া খুঁটি সড়কের উপর পড়ে গেল যে কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পাড়ে।
মধুগড় নিবাসী শাহিদা বেগম বলেন, আমার দুই সন্তান প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যায়। হেলে থাকা বিদ্যুতের খুটিটি দেখে আতঙ্কে থাকি। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খুঁটিটি হেলে আছে। যে কোনো সময় তার ছিড়ে পড়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি। স্থানীয় তরুণ সমাজসেবক মো.আতিকুল হক রিপন বলেন, প্রতিদিন এ রাস্তায় পথচারী, গাড়ী, অটোরিক্সা চলাচল করে। সামনে মাদ্রাসার ছাত্রসহ নারী পুরুষ এ রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা ডাক্তার মো. আজাদ হোসেন বলেন, আমি বহুবার বিদ্যুত বিভাগের কাছে জানাইছি। বৃষ্টি বাদলের দিনে খুটিটি পড়ে গেলে প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা আছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাচ্ছি। ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান রিপন বলেন, মসজিদের মুসুল্লিরা এ রাস্তায় চলাচল করে। তারা চলাচল আতঙ্কিত থাকেন।
উল্লেখ্য, এনওসিএস মাতুয়াইল অঞ্চলের স্থানীয় বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে এই সঞ্চালন লাইনের তদারকি করেন। গত বুধবার এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিডিসির এনওসিএস মাতুয়াইল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, টিম পাঠানো হয়েছে, তারা সরেজমিনে তদন্ত করে গেছেন। পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/আ.র