ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কিশোরগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ‘পুষনা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ ভোটকেন্দ্রটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি আগের স্থানেই বহাল রাখার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।
এর আগে স্থানীয় সচেতন ভোটারদের পক্ষে মো. আনারুল ইসলাম প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, ঢাকা) কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনের অনুলিপি আগারগাঁও অফিস, রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, নীলফামারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় ভোটাররা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধন করেন তারা। পরে কেন্দ্রটি আগের স্থানে বহাল রাখার দাবিতে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় ভোটাররা বলেন, পুষনা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি এলাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় সব ভোটারের জন্য সেখানে যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন কেন্দ্রটি ভোটারদের বসবাসের এলাকা থেকে অনেক দূরে ও এক প্রান্তে অবস্থিত।
তারা আরও বলেন, নতুন কেন্দ্রের যাতায়াতের রাস্তাঘাট অনুন্নত হওয়ায় বয়স্ক, নারী ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের সেখানে গিয়ে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোগান্তি বাড়বে।
ভোটাররা জানান, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে পুষনা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা বা রেকর্ডও নেই।
এলাকাবাসীর পক্ষে প্রায় ১ হাজার ১০০ স্থানীয় ভোটারের স্বাক্ষর সংবলিত আবেদনে সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করা ও ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক রাখতে পুষনা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি আগের স্থানেই বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইউনুস, মো. আনারুল ইসলাম ও সেলিমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে শত শত মানুষ অংশ নেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ