৮৯০ মণ্ডপে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে নীলফামারীর ছয় উপজেলায় এখন উৎসবের আমেজ। জেলার ৮৯০টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড়, অলংকার পরানো, মণ্ডপ সাজানো, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে পুরোদমে। পূজা যত ঘনিয়ে আসছে, মণ্ডপগুলোতে ততই বাড়ছে আয়োজক ও ভক্তদের ব্যস্ততা।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ছয় উপজেলায় মোট ৮৯০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং, সাজসজ্জা, মুকুট ও অলংকার পরানোর কাজ।
নীলফামারী সদর উপজেলার মিলন পল্লী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমাশিল্পী শ্যামল পাল বলেন, এ বছর তিনি তিনটি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। সময়মতো কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়েছে। বাঁশ, খড়, মাটি ও রঙসহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয়ও বেড়েছে। তবে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে আবেগ ও ভালোবাসা জড়িত থাকায় এই পেশা ধরে রেখেছেন তিনি।
মিলন পল্লী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি ও মিলনেরও প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সদরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমাতা মন্দিরের প্রতিমাশিল্পী সদানন্দ পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ তার কাছে শুধু পেশা নয়, ভক্তি ও আরাধনার অংশ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করলেও প্রতিমা তৈরির সময় তিনি আলাদা এক ধরনের তৃপ্তি অনুভব করেন।
মন্দিরটির সাধারণ সম্পাদক তাপস সাহা ও সহসাধারণ সম্পাদক ঝন্টু ভৌমিক বলেন, প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন রং ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী সুশৃঙ্খল পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ডোমার উপজেলার জ্যেষ্ঠ প্রতিমাশিল্পী কালিপদ পাল বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বাঁশ, খড়, মাটি ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের তুলনায় লাভও কমেছে। তারপরও পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশা ছাড়েননি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতারা জানান, প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। পূজার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে মণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এবারও উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তারা।
জেলায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার ফরহাদ খান, পিপিএম বলেন, ৮৯০টি পূজামণ্ডপে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
ভোরের আকাশ/আ.র