সিরাজগঞ্জে চরমপন্থী সর্বহারা দলের ৬৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সর্বহারা দলের সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ এসআরবি-১২ সদর দপ্তরের আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ ফরজানা শারমীন।
এসআরবি-১২ 'র অধিনায়ক, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেস'র মহাপরিচালক, অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ ,এসআরবি ফোর্সেস'র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, বাংলাদেশ পুলিশ রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ, রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন), যুগ্ম সচিব শাহানা আখতার জাহান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু প্রমুখ।
সিরাজগঞ্জ জেলা ৭ জন, রাজবাড়ী জেলার ১৩ জন ও পাবনা জেলার ৪৫ জন চরমপন্থী সর্বহারা দলের সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন।
উল্লেখ্য, একসময় সর্বহারা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও খুনের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক।
সময়ের ব্যবধানে জেলাগুলো এখন অনেকটাই চরমপন্থিমুক্ত হয়েছে। দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ওই তিন জেলার আরও ৬৫ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যাচ্ছেন।
এসআরবি-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৭০ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চরমপন্থি দলের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক সদস্য। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র্যাব-১২ কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন সর্বহারা চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করলো।
ভোরের আকাশ/রই