পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে বিতর্ক, সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের বলাইকাঠী গ্রামে তিন স্কুলশিক্ষার্থীসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়েরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সচেতন যুবসমাজ।
মামলাটি প্রত্যাহার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ইউনিয়নের ধরান্দী বাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে সচেতন যুবসমাজের প্রতিনিধি সোহেল মল্লিক দাবি করেন, পূর্ববিরোধের জেরে সুলতান আকনের স্ত্রী শাহানাজ বেগম চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন স্কুলশিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন সজিব আকন (১৪), ফয়সাল (১৬) ও সাব্বির (১৬)। অপর অভিযুক্ত সোলেমান (৩৫)।
সোহেল মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার নথিতে ঘটনার তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মামলা দায়েরের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে মামলা দায়েরের সময়ের ব্যবধান এবং শিক্ষার্থীদের বয়সসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছর হলেও মামলায় তাদের বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব বিষয় যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান মানববন্ধনকারীরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন মৃধা, কাসেম প্যাদা, রফিক মৃধা, ইউনুস মৃধা, শেফালী বেগম, শাহানারা বেগম, গনি আকন, রিজভী, মোসা. নিশাত ও দিদার আলীসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধের কথা তারা শুনেছেন।
তবে অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনার বিষয়ে তাদের জানা ছিল না বলে দাবি করেন। তাদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরাও তাদের সহপাঠীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আবদুস সালাম মৃধা বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তিনি আগে জানতেন না।
মানববন্ধনের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ ছিল এবং তা মীমাংসার জন্য একাধিকবার গ্রাম আদালতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তার ধারণা, পূর্ববিরোধের সঙ্গে মামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ জন্য প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না; মানববন্ধনের পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তার মতে, যেহেতু আদালতে মামলা হয়েছে, তাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি।
এদিকে, মামলার বাদীপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভোরের আকাশ/আ.র