শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছাদ বাগানেই সাফল্য, আনার ও চারা বিক্রি করে বছরে লাখো টাকা আয়

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে নিরাপদ, ফরমালিনমুক্ত আনার খাওয়ানোর ইচ্ছা থেকেই শুরু হয়েছিল আল আমিনের পথচলা। সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ তাকে সফল ছাদ কৃষি উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার এই তরুণ এখন ছাদে আধুনিক পদ্ধতিতে আনার চাষ ও কলমের চারা বিক্রি করে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করছেন।

বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের পাটখাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন জানান, ২০২৩ সালে তার মা লাভলী বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসক নিয়মিত আনার খাওয়ার পরামর্শ দেন। বাজারে পাওয়া আনারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং উচ্চমূল্যের কারণে তিনি নিজেই আনার চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রথমে বাড়ির উঠানে কয়েকটি চারা রোপণ করেন। পরে ইউটিউব দেখে ছাদে ড্রামে আনার চাষের ধারণা নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে কয়েকটি চারা সংগ্রহ করে শুরু করেন ছাদ বাগান। তবে নিজের গাছের ফল মাকে খাওয়ানোর আগেই ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি মারা যান।

মায়ের স্মৃতিকে শক্তি হিসেবে নিয়ে আল আমিন বাগানের পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তার ছাদে প্লাস্টিকের ড্রামে ভারতের মহারাষ্ট্রের সুপার ভাগোয়া, মৃদুলা, গুজরাটি, থাইল্যান্ডের থাই আনার, অস্ট্রেলিয়ার বিগ থাই, রিমন, মেক্সিকান ও পাকিস্তানি আনারসহ ২৬ জাতের প্রায় ৬০টি পরিপক্ব গাছ রয়েছে। বছরে বর্ষা ও শীত—দুই মৌসুমেই ফলন পান তিনি।

শুধু ফল বিক্রি নয়, কলমের মাধ্যমে উন্নতমানের আনার চারা উৎপাদনও করছেন এই উদ্যোক্তা। বর্তমানে তার বাসার ছাদ ও জমিতে প্রায় দুই হাজার চারা রয়েছে। চারার দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব চারা সরবরাহ করছেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, আল আমিনের সফলতা দেখে অনেকেই ছাদ ও বাণিজ্যিকভাবে আনার চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কৃষিতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আগে আনার চাষে সফল হতে পারেননি। এখন আল আমিনের কাছ থেকে চারা নিয়ে নিজেও ছাদ বাগান করার পরিকল্পনা করছেন।

বাগান দেখতে আসা কলেজছাত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, দেশের আবহাওয়ায় ছাদে এত সুন্দরভাবে আনার চাষ করা সম্ভব—তা আগে জানা ছিল না। ভবিষ্যতে তিনিও এমন একটি বাগান গড়ে তুলতে চান।

আরও পড়ুন

কুড়িগ্রামের কলেজে উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক

আল আমিন জানান, নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ ও সেচের কারণে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আনার চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

বাসাইল উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু ইলিয়াস তালুকদার বলেন, আল আমিন একজন সফল তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তার সফলতা অন্য তরুণদেরও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে।

ভোরের আকাশ/জেআ

টাঙ্গাইলবাংলাদেশ কৃষিছাদ বাগান

শেয়ার করুন: