শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পিরোজপুরে আমড়ার বাম্পার ফলন,দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা

এস এম সিপার, পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

বাংলাদেশের কৃষি মানচিত্রে পিরোজপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এ জেলার সুস্বাদু আমড়ার খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। প্রায় শত বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে আমড়া চাষ হয়ে আসছে পিরোজপুরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ফল জেলার কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনপদের মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

পিরোজপুরের আঞ্চলিক সড়কগুলোর পাশে সারি সারি আমড়াগাছ যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি জেলার গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ির আঙিনায়ও দেখা মেলে এক-দুটি আমড়াগাছের। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ এ ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে আমড়ার রয়েছে বিশেষ কদর।

পিরোজপুরের আমড়া শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, এটি এ অঞ্চলের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণবন্ত অংশ। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ জেলার আমড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব জেলাতেই পৌঁছে যায় পিরোজপুরের আমড়া। বৃহত্তর বরিশালের অংশ হওয়ায় এ অঞ্চলের আমড়া দেশজুড়ে ‘বরিশালের আমড়া’ নামেও পরিচিত। আকারে তুলনামূলক বড় ও স্বাদে সুস্বাদু হওয়ায় ভোক্তাদের কাছে এ আমড়ার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

তবে চলতি মৌসুমে পিরোজপুরে আমড়ার বাম্পার ফলন হলেও বাজারের মন্দাভাব ও ফল অতিরিক্ত পেকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিরিক্ত পেকে যাওয়ার কারণে গাছ থেকে আমড়া ঝরে পড়েছে, ফলে উৎপাদিত ফলের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় এ বছর আমড়ার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে প্রত্যাশিত লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

স্থানীয় আমড়া ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের একই সময়ে প্রতি মণ আমড়া বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অথচ চলতি মৌসুমে সেই আমড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি মণে দাম কমেছে প্রায় ৮৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। একদিকে ফলের দাম কম, অন্যদিকে অতিরিক্ত পেকে ঝরে পড়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: ফিরোজ বলেন, “এ বছর আমড়ার বাজার খুবই খারাপ। আমড়া অতিরিক্ত পেকে যাওয়ায় অনেক ফল ঝরে পড়েছে। এতে আমাদের অর্ধেক পরিমাণ আমড়ার ক্ষতি হয়েছে। গত বছর এ সময়ে যে দামে আমড়া বিক্রি করেছি, এ বছর তার চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে ব্যবসা করে লাভের পরিবর্তে লোকসান হচ্ছে।”

আরেক ব্যবসায়ী সত্যেনন্দ হালদার অভিযোগ করে বলেন, “কৃষি অফিস থেকে আমরা তেমন কোনো সহযোগিতা পাই না। তাঁরা যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিতেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করতেন, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো। আমরা আরও বেশি আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারতাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমড়ার ব্যবসা করে লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

এদিকে নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহফুজুর রহমান জানান, চলতি বছর নেছারাবাদ উপজেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ হয়েছে। উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় চার হাজার আমড়ার বাগান রয়েছে। এ বছর প্রতি হেক্টরে আমড়ার উৎপাদন ১৬ মেট্রিক টন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, আমড়াচাষিদের উৎপাদন বাড়ানো ও চাষাবাদের মান উন্নয়নে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সার উৎপাদন বাড়াতে নভেম্বরে খুলছে তিন বন্ধ কারখানা

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমড়া অতিরিক্ত পেকে যাওয়া, ফল ঝরে পড়া এবং বাজারে দাম কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় তাঁদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমড়া সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে কার্যকর পরামর্শ, কৃষি বিভাগের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও চাষিদের সমন্বয় এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ চান তাঁরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পিরোজপুরের আমড়ার দেশজুড়ে চাহিদা থাকলেও সঠিক সময়ে ফল সংগ্রহ, দ্রুত বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এমন লোকসানের আশঙ্কা থেকেই যাবে। তাই আমড়ার উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে চাষি-ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: