গোপালগঞ্জে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মৌসুমের প্রথম বজ্রসহ বৃষ্টি

পবিত্র রমজান মাসে কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ গোপালগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ। হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এরপরই গোপালগঞ্জে শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। মুহূর্তের মধ্যেই শীতল হয়ে যায় জেলার পরিবেশ। প্রচন্ড গরমের মধ্যে অবশেষে বৃষ্টির দেখা পেয়েছে গোপালগঞ্জবাসী।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বছরের প্রথম বৃষ্টিতে তপ্ত প্রকৃতি যেমন শীতল হয়েছে, তেমনি জনমনে ফিরে এসেছে স্বস্তি। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলায় তাপমাত্রা বেড়েছিল। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ ছিল চরমে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এরপরই শুরু হয় স্বস্তির বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে শহরের রাস্তাঘাট ভিজে একাকার হয়ে যায় এবং গুমোট ভাব কেটে গিয়ে বইতে শুরু করে শীতল হাওয়া।
জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ ঘণ্টা বৃষ্টি হওয়ায় তপ্ত ধরণীকে শীতল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের ঝিলিক বইয়ে দিয়েছে। মানবকুল থেকে শুরু করে প্রাণিকুলেও বয়ে যায় শীতলতার পরশ।
নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া লোকজন জানান, প্রখর রোদ আর গরমে আমাদের রিকশা চালানো দায় হয়ে পড়েছিলো। সন্ধ্যায় বৃষ্টি হওয়ায় গরমের হাত থেকে রক্ষা পেলাম। কয়েক দিন ধরে গরম পড়েছিলো। গরমে আমাদের রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। বৃষ্টি হওয়ায় গরম ভাব কেটে যাওয়া ভালো লাগছে। এরকম ঠান্ডা আবহাওয়া থাকলে রোজা থাকতেও আমাদের কষ্ট হবে না।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের দয়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, মৌসুমে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জে প্রথম বৃষ্টিপাত হলো। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এ ৩০ মিনিট পযর্ন্ত জেলায় ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের মাত্রা আরও বাড়বে। তিনি আরও জানান, আমাগী ২-৩ দিন জেলা জুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই