শ্রীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান শামীমের ধারাবাহিক চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে মুক্তির দাবীতে রাস্তায় নেমেছে ভূমিহীন পল্লীর শতাধিক পরিবার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর বরমী আঞ্চলিক সড়কের গিলাশ্বর গ্রামে কয়েক শতাধিক নারী পুরুষ তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ভুক্তভোগী ফিরোজা বেগম বলেন, আমাদের বসতবাড়ি নেই বলে কি আমরা মানুষ না। আমরা ভূমিহীন বলে আমাদের একটু স্বাদআল্লাদ নেই। থাকলে সরকারের কাছে আমাদের দাবি বিএনপির নেতা আক্তারুজ্জামান শামীমের চাঁদাবাজি থেকে আমরা মুক্তি চাই।
শামীমের বাহিনীর চিহ্নত সন্ত্রাসী আজিজুল আমাদের উপর খুবই নির্যাতন করছে। একটি বাথরুম করতে গেলেও তাদের চাঁদা দিতে হয়। আমার মেয়ে মুক্তা আক্তার একটি বসতবাড়ি নির্মাণ শুরু করলে শামীমের লোক আজিজুল, রাশিদুল, হৃদয়, মোর্শেদ, কবির, মাজাহারুল, কলু এসে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদার টাকা না দেওয়ায় হামলা করে মারধর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেয়েকে এলোপাতাড়ি গুরুতর আহত করে। মেয়ে মুক্তা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
ভূমিহীন পল্লীর বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, শামীমের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িতে এসে চাঁদা দাবি করে তারা। আমরা তখন প্রতিবাদ করি এসময় শামীম বাহিনীর সদস্য হৃদয় আমাকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
ভূমিহীন পল্লীর বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, আমরা তাদের হাত থেকে মুক্তি চাই। বিএনপির বড় নেতা বলে ভয়ভীতি হুমকি দেয়। এমন কোন বসতবাড়ি নেই যে বাড়িঘর নির্মাণ করতে টাকা দিতে হয়নি। তাদের চক্রকে সবাই ভয় পায়। সরকারের কাছে দাবি আমাদের মুক্তি দেন। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা রাস্তায় নামছি। এমন নেতা বিএনপির জন্যও হুমকি।
অভিযুক্ত বিএনপির নেতা আক্তারুজ্জামান শামীম বলেন, আমি চাদাবাজীর সাথে জড়িত নই। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে মিথ্যা ছড়াচ্ছে। আমি মারধরের পর ঘটনাস্থলে গিয়েছি। চাঁদাবাজির বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। এটি আমার বিরুদ্ধে একটি যড়যন্ত্র।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, মারধরের ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলার আক্তারুজ্জামান শামীর নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই