শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কেশবপুর

জলাবদ্ধতায় অর্ধশত বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:০৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে যশোরের কেশবপুরে প্রায় দেড় যুগ ধরে সেচপাম্প দিয়ে বিলের পানি নিষ্কাশন করে বোরো আবাদ হয়ে আসছে। চলতি বছর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ উপজেলার প্রধান নদী-খাল পুণঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়। এলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশনে শহরে মাইকিং করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিলের পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এতে উপজেলা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্ধশত বিলে এবার বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরমধ্যে অনেক বিলে এক থেকে দেড় ফুট পানি থাকার পরও সেচ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ উপজেলার বর্ষার অতিরিক্ত পানি বুড়িভদ্রা, হরিহর, আপারভদ্রা হয়ে হরি নদীতে নিষ্কাশন হয়। পলি জমে নদী ও খালের তলদেশ উঁচু হওয়ায় বিলগুলিতে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। যে কারণে কৃষকদের প্রায় দেড়যুগ ধরে বিলের পানি সেচপাম্প দিয়ে নিষ্কাশন করে বছরের একমাত্র ফসল বোরো আবাদ করতে হয়। কৃষক ও ঘের মালিকদের যৌথ অর্থায়নে এ সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এদিকে, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হরিনদীসহ প্রধান নদ-নদী ও খালের ৮১.৫০০ কিলোমিটার পুণঃখননে সরকার ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। গত ২৬ অক্টোবর এর খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। 

কৃষকরা জানান, বোরো আবাদের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩০ পৌষের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশনের শর্তে জমি ঘের মালিকদের কাছে লিজ দেয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ঘের মালিকরা সেচপাম্প দিয়ে ঘেরের পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশন করতে মাইকিং করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সেচ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। যে কারণে উপজেলা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্ধশত বিলের পানি এখনও সম্পূর্ণ নিষ্কাশন হয়নি। কোনো কোনো বিলে এক থেকে দেড় ফুট পানি থাকা অবস্থায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ফলে ওইসব বিলে কৃষকদের বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ঘের মালিক মেজবাহউদ্দীন মিল্টন জানান, উপজেলার পশ্চিম সারুটিয়ার বরুনার বিলে তার ৪০০ বিঘা জমির ২টি মাছের ঘের রয়েছে। ২৫-২৬টি মেশিন দিয়ে ঘেরের পানি নিষ্কাশন চলছিল। নির্ধারিত সময়ে ঘেরের পানি নিষ্কাশন সম্ভব ছিল। কিন্তু পাশর্বর্তী ঘেরের কিছু কুচক্রিমহল বুড়লি খালের বাধ কেটে দেয়ায় তাঁর ঘের আবার পানিতে তলিয়ে যায়। খালের বাধ সংস্কার করে পুণরায় ঘেরের পানি নিষ্কাশন চলছিল। ৩০ পৌষের ৭ দিন বাকি থাকা অবস্থায় সেচ বন্ধ করা হয়েছে। ঘেরে এক থেকে দেড় ফুট পানি আছে। যে কারণে বিলের শতাধিক কৃষক বোরো আবাদ করতে পারছে না। আর দুই দিন সময় পেলে ঘেরের পানি সম্পূর্ণ নিষ্কাশন হয়ে যেত। শুধু মিল্টনের ঘের নয় ওই অঞ্চলের প্রায় অর্ধশত ঘেরের একই অবস্থা।    

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে এউপজেলায় ১৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ৮ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধান আবাদের আশা করা হয়। এবছর পানি কম হওয়ায় আশাছিল ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আরও ২/৩ দিন সেচ কার্যক্রম চালানোর জন্য তিনি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি দপ্তরের উপপরিচালকের সাথে কথা বলেছেন। 

ভোরের আকাশ/র.ই

যশোরজলাবদ্ধতাআব্দুল্ল্যাহ আল মামুন

শেয়ার করুন: