হু-হু করে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিসহ পার্বত্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। একদিকে হু-হু করে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর, অন্যদিকে সেই পানিকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর জানান, রোববার (১২ জুলাই) কেন্দ্রটির ৫টি উৎপাদন ইউনিট সচল রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে মোট ২০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ৯৯.১২ ফুট (এমএসএল), যা এখনো ১০৯ ফুট বিপদসীমার প্রায় ৯.৮৮ ফুট নিচে রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও পানির স্তর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটি জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এখনও পানির নিচে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকার হাজারো পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন অসংখ্য মানুষ। প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে পানির স্তর এখনও বিপদসীমার নিচে থাকায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং হ্রদের পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। তবে একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও দ্রুত পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ভোরের আকাশ/এম