বরগুনায় নিউমোনিয়ার প্রকোপ, আক্রান্তের বেশিরভাগই শিশু

শীত মৌসুমের শুরুতেই বরগুনায় নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিনগুণ বেশি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। ফলে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়-৫০ জনের জায়গায় ১২০ থেকে ১৫০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ শিশু মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রথমে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বেশিরভাগ শিশুর নিউমোনিয়া শনাক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত এক মাসে সর্দি-কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন উপচে পড়া ভিড়। ৫০ শয্যার জায়গায় দেড় শতাধিক রোগী থাকায় বেড, মেঝে, বারান্দা সব জায়গায় রোগীতে ভরপুর।
এ অবস্থায় অভিভাবকেরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালে এলেও বেশিরভাগ ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যেতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকে, ফলে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

পাথরঘাটার কাকচিরা এলাকার বাসিন্দা মোসা. রিমি বেগম ভোরের আকাশ-কে বলেন, আমার বাচ্চার নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। সিট না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাচ্ছি না-সবই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য এটি খুব কষ্টকর। সরকারের জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ইটবাড়িয়া এলাকার মো. মহাসিন রেজা ভোরের আকাশ-কে বলেন, অসুস্থ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে চার দিন ধরে হাসপাতালে আছি। আর্থিক কষ্ট থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর মা তানিয়া আক্তার ভোরের আকাশ-কে বলেন, ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়েছেন, কিন্তু হাতে টাকা নেই। হাসপাতাল থেকে নাপা ছাড়া আর কোনো ওষুধ পাইনি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মুর্শিদ শুভ ভোরের আকাশ-কে বলেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি ও কাশি বেশি দেখা যাচ্ছে। পরীক্ষা করলে বেশিরভাগের নিউমোনিয়া ধরা পড়ছে। পাশাপাশি ডায়রিয়ার রোগীও বাড়ছে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে-শিশুকে রাতে বাইরে না নেওয়া, গরম কাপড় পরানো এবং সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার করানো জরুরি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম ভোরের আকাশ-কে বলেন, হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বাড়ায় ওষুধের মজুত কমে গেছে। সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন শিশু ভর্তি আছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ দল সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.