শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শেরপুরে খাল পুনঃখননের ২ কোটি ৫৭ লাখের প্রকল্পে কাজ শেষে ফেরত ৬৮ লাখ টাকা

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক।

প্রকল্পটির আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি কৃষকদের সেচসুবিধা বাড়ানো, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত কাটাখালী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বাড়ানো এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এ প্রকল্পের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে পয়েস্তিরচর এলাকায় প্রকল্পটির খননকাজের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। তার উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার পর নিয়মিত তদারকি ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খননকাজ সম্পন্ন করা হয়।

প্রকল্পের শুরু থেকে কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের খননকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশারও প্রতিফলন ঘটেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকল্পের কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার বলেন, জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের কাজে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া তারই একটি উদাহরণ।

প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।

এ ছাড়া খালটি দীর্ঘমেয়াদে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজে লাগানোর জন্য ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খালের দুই পাশের মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা যায়, খননকাজে প্রতিদিন প্রায়  ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ভরাট খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিব রকিবুল হাসান বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ গত ১৩ মে শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। 

খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে সেগুলোও মেরামত করে দেওয়া হবে।

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি ওই এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন

বাকৃবিতে 'কৃষি-ব্যবসা গবেষণায় মৌলিক পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির প্রয়োগ বিষয়ক কর্মশালা'

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরপরই ওই এলাকার সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ফসলের জমিতে সেচের পানির সংকট অনেকটাই কমবে। এতে শেরপুরে সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি। একই সঙ্গে খালের দুই পাশে গাছ লাগানোর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশও সুন্দর হয়েছে। প্রকল্পের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত।

ভোরের আকাশ/রই

ফরিদা ইয়াসমিন

শেয়ার করুন: