হাসিনা দেশের অর্থনীতি লুট করে শূন্যের কোঠায় নিয়ে গেছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, এই সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের শূন্য হাতে ক্ষমতায় এসেছেন। একেবারে শূন্য হাতে। হাসিনা এই দেশের অর্থনীতিকে লোট করে একেবারে শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। ড. ইউনূস প্রায় ১৮ মাস থেকে সেটাকে একদমই উঠাতে পারে নাই। শেষ মাসে তো বেতন দিবে কিভাবে সেটা নিয়েও চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। ঐ একটা অবস্থায় আমরা কিন্তু সরকার গঠন করেছি। তা সত্বেও কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করছেন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু উনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ড যাতে আপনারা সকলেই পান অর্থাৎ প্রত্যেকটা পরিবারের গৃহিণী মা তিনি যাতে পান সেজন্য কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে যারা তথ্য সংগ্রহ করিবে তাদের জন্য ইন্টারভিউ নিয়ে তাদের একটা টিম করেছি। ইউএনও সাহেব তার প্রশাসন নিয়ে টিম করেছেন। তাড়াতাড়ি তথ্য সংগ্রহ করবেন। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড দেয়া শুরু হবে। প্রত্যেকটা বাড়ির প্রত্যেকটা মা এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। শতশত কোটি টাকা হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এটা কিন্তু এই শূন্য অর্থনীতির মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন—যেটা আমরা নির্বাচনের সময় বলেছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ঘোষণা করেছেন যে উপজেলার বাইরেও যেসব জায়গায় কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, সেগুলোকে সচল করা এবং যেখানে নেই, সেখানেও কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা। যাতে মানুষের অসুখ-বিসুখ হলে দৌড়ে টাঙ্গাইল শহরে যেতে না হয় এবং এখানেই ছোটখাটো অসুখের চিকিৎসা করা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা একটা বিরোধী দল পেয়েছি—জামায়াতে ইসলামী এবং তার সাথে আরও কিছু ছোটখাটো দল। তারা এখুনি আমাদেরকে এমন বানিয়ে ফেলেছে যে আমরা এখুনি স্বৈরাচার হয়ে গেছি। এই ৫ মাসে এত অসহিষ্ণু এই বিরোধীদলগুলো, যাদেরকে আমরা চিনি। আমি আমার নির্বাচনী সভায় বলেছিলাম, যারা একটা ভোটের জন্য বেহেশতের টিকেট দেয়, ওরা পাপাচারে লিপ্ত। নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক, ওরা পাপাচারে লিপ্ত। কারণ, আমরা জানি, যারা মুসলমান, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একমাত্র আমাদের প্রিয় নবী, আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে একটা এখতিয়ার দিয়েছেন কাল কিয়ামতের ময়দানে। আর সেই এখতিয়ার হলো সাফায়াত, মানে সুপারিশ। এবং তিনি বলেছেন, আমার প্রিয় নবী যাকে সাফায়াত করবেন, সুপারিশ করবেন, তাকেই বেহেশতের টিকেট দেবেন। তার মানে, বেহেশতের টিকেট মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হাতে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাতেও না; তিনি শুধুই সুপারিশ করিবেন। আর ওই রাজনৈতিক দল—উনাদের পকেটভর্তি বেহেশতের সুপারিশ! একটা করে ভোট দেবেন আর বেহেশতে চলে যাবেন! নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক। আজকে তারা ৫ মাসেই অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে। তারা আমাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। এখুনি তাদের এমন অসহিষ্ণুতা যে, তারা কী বলেন আর না বলেন, তা নিজেরাও বোঝেন না। আমি বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই। শান্ত হোন– হুশে আসেন, বেহুশ হবেন না। এই সরকার জনগণের ভোটে গণতান্ত্রিক সরকার। এই সরকারকে হটাতে হলে পাঁচ বছর পর যে আবারও যে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ভোটে এসে তারপর যদি বেশি পান তাহলে এই সরকারে যাবেন– নয়লে এই সরকারই আবারও নির্বাচিত হবে।
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার সেবকের সরকার। আমরা সেবা করব। পাঁচ বছর পরে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আবার জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয় আসবো। আপনাদের ভোট দিলে আসবেন। জ্বালাও পোড়াও করে অযথা ওই সচিবালয়-মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। কথা খুব পরিস্কার।
তিনি আরও বলেন, যেমন পার্লামেন্টে দায়িত্বশীল আচরণ করেন—আমরা বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছি। তেমনি পার্লামেন্টের বাহিরে মাঠের আন্দোলনে দায়িত্বশীল আচরণ করেন। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়, বাংলাদেশের মানুষ আশা করে। আপনাদেরকে বলব—আমাদের সরকারের সঙ্গে থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আমরা একটা সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আপনাদেরকে ইনশাআল্লাহ উপহার দেব।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইকবাল হোসেন, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু প্রমুখ।
ভোরের আকাশ/এনউব