শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা

সম্পন্ন হয়নি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কে কাজ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলছে
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলছে

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কে কাজ শেষ না হওয়ার কারণে ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কের চার লেন উন্নয়নকাজ এখনো শেষ না হওয়ায় ঈদযাত্রায় দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে মহাসড়কের যাত্রীদের। অন্যদিকে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজের ধীরগতি বলে অভিযোগ পরিবহন চালক ও যাত্রীদের। তবে কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

এদিকে, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ টি জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় প্রতি বছর ঈদের সময় এই মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এবারও যমুনাসেতুর সীমিত সক্ষমতা ও চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় মহাসড়কে স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যমুনা সেতু। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এ অংশ নির্বিঘ্নেই যাতায়াত করতে পারছেন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩টি জেলার যাত্রীরা। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ মহাসড়কের এলেঙ্গা অংশে ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকায় সংকুচিত হয়ে পড়ে মহাসড়কের এ অংশের প্রশস্ততা। ফলে প্রতিনিয়তই লেগে যাচ্ছে যানজট।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়ক উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। ২০২২ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ প্রকল্পে মোট ৮টি ব্রিজ, ১০টি কালভার্ট, ৩টি আন্ডারপাস ও একটি ফ্লাইওভার রয়েছে। ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আন্ডারপাসের পাইলিং ও ফ্লাইওভারে পাইলিং এর কাজ শেষের দিকে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। বিশেষ করে এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাসের কাজও চলমান রয়েছে। আসন্ন ঈদ কেন্দ্র করে দ্রুত গতিতে কাজ করা হচ্ছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে যানজটের অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে, ফোর লেনের মহাসড়ক দিয়ে বিপুল সংখ্যক গাড়ি দ্রুত গতিতে এলেও সেতুর প্রবেশমুখে এসে চাপ সৃষ্টি হয়। এতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং কখনো কখনো ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। ঈদের সময় এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদকে কেন্দ্র করে ৫০ হাজারেরও বেশি গাড়ি চলাচল করে।

তারা আরও জানান, প্রতিবছর ঈদর আগ ও পর বিভিন স্পট যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, মহাসড়ক লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি নামানো এবং নিয়মবহির্ভূতভাব যাত্রী ওঠানামা করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সেতুর ধারণক্ষমতার বাইরে চল যায়। তাই যমুনাসতু ওয়ানওয়ে হওয়ায় সেতুর প্রশস্ততা বাড়ানা বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণর দাবি এখন সময়র দাবিতে পরিণত হয়েছে ।

এ মহাসড়কে চলাচলকারী একাধিক পরিবহন চালকরা চালান, ঈদ এলেই শুরু হয় তড়িঘড়ি কাজ। মহাসড়কের চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। গত ঈদে চার লেনের কিছুটা সুবিধা পেলেও সার্ভিস লেনের কাজ শেষ করতে পারেনি। তবে এবারও মহাসড়কের চার লেনের সুবিধা পেলেও পুরোপুরি সুবিধা পাবে না এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা। এখনো মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কাজ অসমাপ্ত রয়েছে ।

এ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী শাহিন মিয়া জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পট দিয়ে হঠাৎ বড় রাস্তায় ছোট ছোট যানবাহন উঠে পড়ায় যানজটের সষ্টি কর। এদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। এ ছাড়া কারবানির ঈদের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন স্পট ট্রাকে গরু ওঠানামা করানো হয় সে সময়ও মহাসড়কের যানজটের সৃষ্টি হয়। এ যানজট নিরসনে পুলিশ প্রশাসনের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

রংপুরের বাসযাত্রী আসলাম শেখ জানান, বিগত কয়েক বছর ধরেই এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এক কথায় ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজের ধীরগতি।

আবদুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে আসন্ন ঈদযাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেন যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বিগত তিন মাসে ধরে কাজের গতি বেড়েছে। আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবো।

আরও পড়ুন

শেষ হলো হজ ফ্লাইট, হজে গিয়ে মারা গেছেন ২৪ জন

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, যানজট নিরসনে মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে জেলা পুলিশের আট শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। মহাসড়কে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। যমুনা সেতু ব্রিজের ওপরে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাতটি রেকার থাকবে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে। প্রিক্রেট ডিউটি ও মোটরসাইকেলের টিম থাকবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আশা করছি সবার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হবে না।


ভোরের আকাশ/ইউএম

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা

শেয়ার করুন: