মাদারীপুরে নয়াচর-চরমুগুরিয়া সেতুর কাজে ধীরগতি: ভোগান্তি চরমে

মাদারীপুরে কুমার নদের ওপর নির্মাণাধীনএকটি সেতু এখন স্থানীয়বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্যচরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।দীর্ঘ তিন বছরেও সেতুরনির্মাণ কাজ শেষ নাহওয়ায় সদর উপজেলার চরমুগরিয়ও নয়াচর এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।বিশেষ করে ঐতিহাসিক চরমুগরিয়াবন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতিরমুখে।
সরেজমিনেদেখা যায়, নদীর দুইপায়ে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ছোটছোট ডিঙ্গি নৌকা। এতে সাধারণ মানুষেরযেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। ব্যবসায়ীরা জানান, মালামাল আনা-নেওয়ায় খরচকয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এছাড়াসন্ধ্যার পর এলাকাটি প্রায়জনশূন্য হয়ে পড়ে, যাযাতায়াতের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এলজিইডিসূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরসদর উপজেলার চরমুগরিয়া-নয়াচর এলাকায় কুমার নদের ওপর এইসেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়২০২২ সালের ১৬ আগস্ট। ৮কোটি ৪৫ লাখ টাকাব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২৫সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথাছিল। তবে নির্ধারিত সময়েকাজ শেষ না হওয়ায়ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় আরও একবছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুনপর্যন্ত করা হয়েছে। এখনপর্যন্ত ৪ কোটি ১৪লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৫টাকা বিল পরিশোধ করাহলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হতাশাজনক।
অভিযোগউঠেছে, দিনের পর দিন কাজবন্ধ থাকে এবং সাইটেপর্যাপ্ত শ্রমিক দেখা যায় না।কুমারটেক এলাকার বাসিন্দা মাসুদ সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটাব্রিজের কাজ তিন বছরধরে চলছে, কিন্তু অগ্রগতি নেই। দুই-চারজনমিস্ত্রি দিয়ে কাজ চালায়।এভাবে চললে কাজ কবেশেষ হবে কেউ জানেনা।’
নয়াচরএলাকার ভুক্তভোগী সুমন বলেন, ‘সেতুনা থাকায় প্রতিদিন নৌকা দিয়ে পারহতে হয়। এতে আমাদেরসময় ও অর্থ দুটোইঅপচয় হচ্ছে।’ অন্যদিকে চরমুগরিয়া বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রমহয়েছে।
এবিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়াজানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করারচেষ্টা চলছে। বর্ধিত সময় অনুযায়ী আগামীজুনের মধ্যেই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবেবলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভোরের আকাশ/আতিক