বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী গ্যাস বিস্তার বন্ধের দাবিতে পাথরঘাটায় নৌবহর কর্মসূচি

বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির বেপরোয়া বিস্তার বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবিতে বরগুনার পাথরঘাটায় নৌবহর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বিষখালী নদীতে জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন–এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক জেলে নিজ নিজ নৌকা নিয়ে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিনদিন তীব্র হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার, নদীর প্রবাহ পরিবর্তনসহ নানা কারণে জেলে ও উপকূলবর্তী মানুষের জীবিকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জীবাশ্ম গ্যাসের নতুন অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটকে আরও গভীর করবে বলে তাদের আশঙ্কা।
এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উপকূলীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “গ্যাসসহ জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ শুধু পরিবেশ নয়, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। পাথরঘাটা, সুন্দরবন ঘেরা অঞ্চল কিংবা দক্ষিণ উপকূল—সব জায়গাতেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা খুব কাছ থেকে দেখছি। যে হারে নদীর চরপুঞ্জীভবন, লবণাক্ততা ও অস্বাভাবিক আবহাওয়ার পরিবর্তন বাড়ছে, তা আগামী দিনের জেলে সমাজকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দেবে। টেকসই উপকূল গড়তে হলে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর জরুরি।”
নৌবহর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জেলেরা জানান, নদী ও সমুদ্রের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের মাছ ধরার মৌসুম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন সাগর উত্তাল হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের মাছ ধরতে যেতে হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণ বন্ধ, উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের জন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান।
ভোরের আকাশ/মো.আ.