বাংলাদেশে আশ্রিত সব রোহিঙ্গা রাখাইনের বাসিন্দা নয়: মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার সবাই রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত নন বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, বাংলাদেশের দেওয়া তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যাচাইয়ের জন্য ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা দিয়েছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের দাবি, যাচাই করা ব্যক্তিদের মধ্যে আরও ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিবৃতিতে মিয়ানমার আরও দাবি করে, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা সবাই দেশটির নাগরিক নন। একই সঙ্গে ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো জাতিগত পরিচয় তারা স্বীকৃতি দেয় না। বরং এই জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে মিয়ানমার।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘একপাক্ষিক’ ও ‘ভুল তথ্যভিত্তিক’ বলেও মন্তব্য করেছে দেশটি। মিয়ানমারের দাবি, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের সহিংসতার আগে রাখাইনের বুথিডং, মংডু ও রাথেডং এলাকায় ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ সেখানেই থেকে যান এবং ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশে চলে আসেন বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।
দেশটি আরও জানায়, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য একাধিকবার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও কোনো শরণার্থী মিয়ানমারে ফিরে যাননি। মিয়ানমারের বক্তব্য, কেবল যাচাই করা রাখাইনের সাবেক বাসিন্দাদেরই গ্রহণ করা হবে। তবে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার পর তাদের প্রত্যাবাসন করা হবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের যুক্ত করলে বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।
রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা শরণার্থীরা অবশ্য বলছেন, মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হলে তারা যেকোনো সময় নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত। তাদের দাবি, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা পেলেই তারা নিজ ভূমিতে ফিরতে চান।
শরণার্থীরা আরও বলেন, অল্পসংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফেরত নিয়ে বাকিদের বাদ দেওয়া হলে তা পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। কোনো ধরনের বাছাই নয়—ক্যাম্পে থাকা প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
ভোরের আকাশ/সু.পা