শেরপুরে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

শেরপুরে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার সাপমারী উচ্চ বিদ্যালয়-এর সম্মুখ সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেন শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী গ্রামের নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এসময় গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, সাপমারী সৈনিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জনৈক জবেদ আলীর ছেলে মোঃ হারেজ আলী (৩৬) একজন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী। তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার রাতে প্রতিদিনের মতো হারেজ আলী তার নতুন বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এদিকে রাত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে পুলিশ ও একদল সেনা সদস্য তার নতুন বসতবাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। পরে তাকে পুরান বাড়িতে নিয়ে যায় এবং পুরাতন বাড়ির পানির ট্যাংক থেকে একটি শর্টগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় একটি অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোঃ হারেজ আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সাথে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত নন। তার নতুন বসতঘর থেকে এ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কে বা কারা পানির ট্যাংকিতে অস্ত্র রেখে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও নির্দোষ হারেজ আলীকে মুক্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসময় উক্ত মানববন্ধন কর্মসুচিতে আসা অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় নতুন কুঁড়ি স্কুলের পরিচালক মোঃ খায়রুল আলম সবুজ, বিএনপির নেত্রী শাপলা বেগম, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বাসার, ও এরশাদ আলী প্রমুখ।
ভোরের আকাশ/আ.র