শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নৌযান শুমারিতে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানালেন ড. জিয়াউদ্দীন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

দেশের নৌপরিবহন খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় আনতে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এই শুমারির মাধ্যমে সমুদ্রগামী ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিবিএস চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের যুগ্ম পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতি, নৌবাণিজ্য, মৎস্যসম্পদ এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় অংশ নৌপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল হলেও এখন পর্যন্ত সব ধরনের নৌযানের কোনো সমন্বিত ও হালনাগাদ তথ্যভান্ডার নেই। ফলে উন্নয়ন পরিকল্পনা, নৌপথ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব বিবেচনায় প্রথমবারের মতো জাতীয় নৌযান শুমারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুমারিতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সব ধরনের নৌযান, যাত্রীবাহী লঞ্চ, কার্গো জাহাজ, ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা, স্পিডবোট, বালুবাহী ও পণ্যবাহী নৌযানসহ বিভিন্ন শ্রেণির জলযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি মালিকানা, ব্যবহার, ধারণক্ষমতা, নির্মাণ বৈশিষ্ট্য এবং পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, নির্ভুল তথ্যই উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। সঠিক তথ্য ছাড়া কোনো খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নৌযান শুমারিকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য ব্যবস্থাপনা সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে পারে। একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ গড়ে উঠলে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্যের সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে।

নৌযান মালিক, জেলে, মাঝি ও নৌ-শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুমারিতে সঠিক তথ্য প্রদান করলে ভবিষ্যতে তাদের জন্য আরও কার্যকর কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা সহজ হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম জাতীয় নৌযান শুমারি। তাই তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অবহেলার সুযোগ নেই।

তিনি মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দুর্গম চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, নদীতীরবর্তী জনপদ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো নৌযান যেন শুমারির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এই শুমারির মাধ্যমে জেলে ও নৌ-শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তার বাস্তব চিত্র উঠে আসবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা ও দুর্ঘটনা বিমাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা সহজ হবে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নৌখাতের ঝুঁকি বাড়ছে। নির্ভুল তথ্যভান্ডার থাকলে দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপদ নৌচলাচল এবং জরুরি সেবা পরিচালনা আরও কার্যকর হবে।

বিবিএসের যুগ্ম পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান জানান, তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গণনাকারী ও তদারকি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একাধিক পর্যায়ের তদারকি ব্যবস্থা থাকবে।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করলেন কিউ টার্মিনালসের গ্রুপ সিইও

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম বলেন, দেশের নৌপথ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ নৌচলাচল এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে একটি আধুনিক তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিবিএসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নৌপরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সফলভাবে নৌযান শুমারি সম্পন্ন হলে দেশের নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর, তথ্যনির্ভর ও দীর্ঘমেয়াদি হবে।

ভোরের আকাশ/জেআ

নৌপরিবহনবাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোনৌযান শুমারি-২০২৬

শেয়ার করুন: