শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চালুর দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের

আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট রুটে লোকাল ট্রেন বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

দেশের পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট সেকশনের অধীনে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৭৮ কিলোমিটার রেলপথে মোট ১০ টি স্টেশন এবং দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে সবধরনের লোকাল ট্রেন। 

ফলে এই পথে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো হয়ে উঠেছে লোকাল যাত্রীদের চলাচলের এক মাত্র ভরসা। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বার্থে এবং আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি কমানোর লক্ষ্যে এক জোড়া লোকাল ট্রেন ও বন্ধ স্টেশন চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। সিলেট বিভাগজুড়ে ৮ দফা দাবি আন্দোলনকারীরা বিষয়টির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, এই পথে বন্ধ হওয়া লোকাল ট্রেন ও স্টেশন গুলো আবারও চালু করা হলে চাঙ্গা হবে গ্রামীণ অর্থনীতি। কমে আসবে বিনা টিকেটে আন্তঃনগর ট্রেন ভ্রমণের সংখ্যাও। এতে সরকারের রাজস্বের পরিমাণও বাড়বে। এতে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ঘন ঘন যাত্রা বিরতির সংখ্যাও কমে আসবে।

জানা যায়, ঢাকা-সিলেট রেলপথে আজমপুর হয়ে  জয়ন্তিকা, কালনি, উপবন ও পারাবত সহ মোট চার জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের পথে উদয়ন ও পাহাড়িকাসহ দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করে। সব মিলিয়ে এই পথে মোট ৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে থাকে। 

তবে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে চলাচল করছে না কোনো লোকাল ট্রেন। এ অবস্থায় এই পথে চলাচলকারী লোকাল যাত্রীদের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলোই একমাত্র ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বসিন্দাসহ যাত্রীরা জানান, সিলেট- ঢাকা রুটে লোকাল একজোড়া সুরমা মেইল, সিলেট- চট্রগ্রাম রুটে লোকাল এক জোড়া জালালাবাদ ট্রেন ছাড়া আখাউড়া সিলেট রুটে লোকাল এক জোড়া কুশিয়ারা এক্সপ্রেস ছাড়াও মিক্সট্রেন টলাচল করতো। লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ট্রেনগুলো চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে বন্ধ হয়ে যায়, মেরাশানী, সিঙ্গারবিল, কাশিমনগর, ইটাখোলা, লস্করপুর, ভাতশালা, মনু, টিলাগাঁও, লংলা, ছকাপন, ভাটেরা, ফেঞ্চুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম।

বর্তমানে এই স্টেশনগুলো পরিত্যক্ত হয়ে মুরগির ফার্ম, কিংবা গোয়াল ঘরে পরিণত হয়েছে। ফলে বিনাটিকিটে আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রী ভ্রমণের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনিভাবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

স্থানীয়দের দাবি, লোকাল ট্রেনগুলো আবারও চালু হলে গ্রামাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করা যাবে। অন্যদিকে বাড়বে সরকারের রাজস্ব। স্থানীয় কৃষকসহ এলাকার বাসিন্দারা উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সহজে যাতায়াত করতে পারত। কিন্তু লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা আন্তঃনগর ট্রেন।

একদিকে লোকাল ট্রেন বন্ধ, অন্যদিকে লোকাল যে রেল স্টেশনগুলো ছিল সেগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারছেন না। অন্যদিকে বিনা পয়সায় ট্রেন ভ্রমণ করতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চান স্থানীয় বাসিন্দারা।  তারা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ব্যাপারে সুনজর চান।

বন্ধ হওয়া ভারত সীমান্তবর্তী সিঙ্গারবিল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অবস্থানরত স্থানীয় ছানাউল হক কলেজের প্রভাষক মো. ইয়াহিয়া জানান, ‘এক সময় আমরা এই সিঙ্গারবিল স্টেশন থেকে ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে যাতায়াত করতাম। এখন এগুলো শুধু স্মৃতি।’ তিনি জানান, লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ থাকার কারণে বিজয়নগর উপজেলার সাধারণ মানুষের উৎপাদিত ফল, সবজি কৃষি পণ্য বাড়তি ভাড়া দিয়ে পরিবহন করতে হচ্ছে। যদি লোকাল ট্রেনগুলো চলাচল করতো, তাহলে স্থানীয় কৃষকেরা অনেকটাই উপকৃত হতেন। এছাড়া বন্ধ স্টেশনগুলো চালু থাকলে সাধারণ মানুষও টিকিট কেটে রেল ভ্রমণ করতে পারত। এতে সরকারের রাজস্বের পরিমাণও বাড়ত।

মেরেশানি রেল স্টেশন এলাকার বাসিন্দা কাহার ভূঁইয়া জানান, ট্রেন এবং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকার কারণে গ্রাম অঞ্চলের যাত্রীদের একমাত্র ভরসা এখন আন্তঃনগর ট্রেন। সাধারণ যাত্রীরা আন্তঃনগর ট্রেনে বিনে পয়সায় ভ্রমণ করে থাকেন। এটা এলাকাবাসী বাধ্য হয়েই করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আক্ষেপ করে কাহার ভূঁইয়া আরও জানান, একসময় তিনি মেরাসানী থেকে বিভিন্ন ফল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, আশুগঞ্জ বিক্রি করতেন। বিভিন্ন সবজি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হরষপুর যেতেন। এখন বাড়তি মূল্যে পিকআপ এবং সিএনজি যোগে ফল এবং সবজির ব্যবসা করছেন। ট্রেনগুলো চালু হলে তিনি সহজে ফল এবং সবজি পরিবহন করতে পারতেন। এজন্য তিনি সরকারের কাছে আখাউড়া সিলেট রেলপথে লোকাল ট্রেনগুলো চালু করে দাবি জানান।

কুলাউড়া থেকে শত শত ছাত্রছাত্রী সকালে সুরমা মেইল অথবা জালালাবাদে চড়ে সিলেট গিয়ে কলেজে পড়ে আবার বিকেলের কুশিয়ার ট্রেনে ফিরে আসতো।  আবার দুপুরে পারাবত ট্রেন চড়ে সিলেট গিয়ে রোগীরা ডাকার দেখিয়ে সুরমা মেইল ট্রেন ফিরে আসতেন। সুরমা মেইল  ও জালালাবাদে প্রতিটি স্টেশনে মালামাল এসে নামতো। বিশেষ করে চট্রগ্রাম থেকে জালালাবাদে আসা ইলিশ মাছ নামতো প্রতিটি স্টেশনে। এসবই এখন স্মৃতি।

এদিকে ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ফারজানা ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক গতি নিয়ে ট্রেনগুলো আসে। এর কিছুক্ষণ পর আজমপুর স্টেশনে যাত্রা বিরোতি দেয়। এর মাধ্যমে আশপাশের অন্তত পাঁচটি স্টেশনে ঘন ঘন যাত্রা বিরতি দিচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো। এতে ট্রেনের গতি যেমন কমছে, তেমনিভাবে ভ্রমণে ভোগান্তি ও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই পথে লোকাল ট্রেনগুলো চালু থাকলে ঘন ঘন এত যাত্রা বিরতি দিতে হতো না। স্থানীয় বাসিন্দারা লোকাল ট্রেন না থাকার কারণেই আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি দাবি করছে। আমি মনে করি সরকারি উচ্চ পর্যায় থেকে অনুসন্ধান করে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। তাহলে এই পথে ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।’

আরও পড়ুন

খুলনায় যুবককে গুলি ও কুপিয়ে জখম

আট দফা দাবি আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক  আজিজুল ইসলাম ও সমন্বয়ক এম আতিকুর রহমান আতিক জানান, আমরা বিগত সরকারের আমলে ৮ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি। লোকাল ট্রেন ও বন্ধ স্টেশন চালুর দাবি ছিলো। আমরা তৎকালীন  রেল সচিবসহ এবং রেল উপদেষ্টা বরাবরে স্মরকলিপি দিয়েছি। 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেলসংস্কারে আন্তরিক। আমরা আশা করবো  আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট সেকশনটি আগে মেরামত প্রয়োজন। সেই সাথে ডুয়েল গেজ ডবল লাইনে উন্নতিকরণের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে এই সেকশনের বন্ধ স্টেশন এবং লোকাল ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেবেন।

ভোরের আকাশ/রই 

আজিজুল ইসলাম

শেয়ার করুন: