জামালপুরের গ্রামে শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কফিনবন্দি হয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন লিমন

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া জামিল আহমেদ লিমনের জীবনের ইতি ঘটলো এক মর্মান্তিক ঘটনায়।
বহু আশা-ভরসা নিয়ে বিদেশ পাড়ি দেওয়া এই তরুণ গবেষক ফিরলেন নিজ গ্রামে, তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে।
সোমবার (৪ মে) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পৌঁছায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামের বাড়িতে।
অ্যাম্বুলেন্সটি বাড়ির আঙিনায় পৌঁছাতেই সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ, আর চারপাশে জড়ো হওয়া মানুষের চোখে ছিল অশ্রু আর অবিশ্বাস।
লিমনকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠী, সবাই যেন শেষ বিদায়ে উপস্থিত হতে ছুটে আসেন।
কেউ কফিন ছুঁয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ আবার নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকেন, চোখে জল নিয়ে।
লিমনের চাচা জিয়াউল হক বলেন, “ছেলেটা ছিল খুবই মেধাবী। আমরা সবাই আশা করেছিলাম, সে অনেক বড় কিছু করবে। পিএইচডি করতে বিদেশে গিয়েছিল, কিন্তু এভাবে ফিরে আসবে, এটা ভাবতেই পারিনি।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বাদ মাগরিব লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে। দাফনের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে লিমন ছিলেন শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয়, পুরো এলাকার গর্ব। এলাকাবাসীর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, লিমন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন।
পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পা শহরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তার রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবু গারবিয়েহকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার তদন্ত চলছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই