পিরোজপুরে শ্লীলতাহানির বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পিরোজপুরে স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের বিরুদ্ধে করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় পিরোজপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান এবং পিরোজপুর করিমুন্নেসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির বিচার দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী একজন প্রতিবাদী নারী। তিনি যদি প্রতিবাদ না করতেন তাহলে রামিসার মত তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হতো।
একজন শিক্ষক তিনি একজন শিক্ষার্থীর সাথে এমন আচরণ করবে সেটা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। যদি এই ঘটনার সঠিক বিচার না হয়, তাহলে আগামীকালকে আবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এমনকি স্কুল ভাঙচুরও হতে পারে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে উঠে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ মে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পর ওই ছাত্রী তার বাবাকে জানান যে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং পরবর্তীতে থানায় গেলে ছাত্রীর এসএসসি পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের বিষয়টি সামনে এনে অভিযোগ প্রত্যাহার কিংবা অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।