বাগেরহাট শহরে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে জনজীবন

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, সড়ক ও বাজার এলাকায় পানি জমে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় দেশের চারটি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরে হাঁটুসমান পানি, স্থবির জীবনযাত্রা টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান বাবু বলেন, ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে। শহরের প্রায় সব জায়গায়ই পানি জমে আছে। বর্ষা শুরুই হয়নি, এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, সামনে কী হবে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। সকালে দোকান খুলেই তারা দেখতে পান চারপাশে পানি জমে রয়েছে। ক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এক ব্যবসায়ী জানান, দোকানের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পণ্য রক্ষায় মালামাল উঁচু করে রাখতে হচ্ছে। ব্যবসা একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে।
রিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তার ওপর পানি থাকায় চালানো খুব কষ্ট হচ্ছে। যাত্রীও কমে গেছে। সারাদিনে তেমন আয় হচ্ছে না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জন প্রতিনিধি ও পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সতর্ক থাকতে বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।
উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই