ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কিশোরীকে গণধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার ৩
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের উত্তরকচুয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে গ্রামের একটি ধানক্ষেতে গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ওই গ্রামের কামাল বিশ্বাসের ছেলে মাসুদ বিশ্বাস, রইচ বিশ্বাস ও রশিদ মন্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর সঙ্গে একই গ্রামের কানু হাজীর ছেলে এনামুলের ৬ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে এনামুল ওই কিশোরীকে ফোন করে বাড়ির বাহিরে আসতে বললে সে আসলে প্রথমে এনামুল তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশে ধান ক্ষেতে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে করে। এসময় উত্তর কচুয়া গ্রামের রইচ বিশ্বাস ওই মুহুর্তের ভিডিও ধারণ করে এবং কামাল বিশ্বাসের ছেলে মাসুদ বিশ্বাস ও রশিদ মন্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমানকে ফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে আসে। পরে রইচের সহযোগিতায় ও পাহারায় তাকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না বলতে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলেও উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ধর্ষণ ঘটনার পরের দিন এনামুলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করে ওই কিশোরী। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশ মিমাংসা করার চেষ্টা করে উত্তর কচুয়া গ্রামের সামাজিক মাতব্বররা। সামাজিক মাতব্বররা মেয়েটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসে। এই ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের, শুরু হয় তদন্ত। তদন্তের এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে গণধর্ষণের তথ্য। পরে এঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে শৈলকুপা থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের হওয়ার পর রাতে অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি এনামুল পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান বলেন, ধর্ষণের ঘটনা জানার পরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে গণধর্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বস্ত করলে কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সোমবার সকালে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রধান আসামি এনামুলকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ