চিতলমারীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ঝুমা গাইন (২৫) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৩ আগষ্ট) উপজেলা শিবপুর গ্রামের তার নিজ বাড়ি থেকে এই লাশ উদ্ধার হয়। নিহতের স্বামী সুব্রত কুমার মন্ডল সিংগাপুর প্রবাসী। তার চার বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। শশুর বাড়িতে ঝুমা গাইন তার ভাসুর, জা ও শাশুড়ী সাথে থাকতেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করেছে।
এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিহত স্বজন সহ এলাকাবাসীর দাবি পুলিশে নিরপেক্ষ তদন্তে মাধ্যমে সত্য ঘটনার বেরিয়ে আসুক এবং অপরাধীরা শাস্তি পাক।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নবুখালী গ্রামের বাসিন্দা নিহত গৃহবধূ ঝুমা গাইনে বাবা দিলীপ গাইন দীনবন্ধু ও ভাই দীপংকর গাইন অভিযোগ করেন, প্রায়ই ঝুমার ভাসুর বাশঁবাড়িয়ার কলেজ শিক্ষক সুকান্ত কুমার মন্ডল ও তার স্ত্রী মধ্য শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও শাশুড়ী চঞ্চলা মন্ডল বিভিন্ন সময় অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন। এটা নিয়ে একাধিক বার বৈঠক ও হয়েছে। ঘরের আড়ায় যেখানে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ পাওয়া যায় তা সন্দেহ জনক। মাটি হতে মাত্র দুই ইঞ্চি উপরে লাশটি ঝুলে ছিল। যা একজন লোকের আত্মহত্যার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নয়। ঝুমাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান,এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা রহস্য জনক। কোন তৃতীয় পক্ষ ঘটনাটি ঘটিয়ে সুকান্তদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে কিনা তাও পুলিশকে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ সুকান্ত ও তার স্ত্রী অনেক অর্থ বৃত্তের মালিক। পুরো বিষয়টি পুলিশে তদন্তে বেরিয়ে আসুক। ঝুমার ৪ বছর বয়সে মেয়ে প্রজ্ঞাকে এখন কে দেখাশোনা করবে তারও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম শাহাদাৎ হোসেন জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানা অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মামলা নং ২২ তারিখ ১৩/০৮/২৫। ময়না তদন্তের রির্পোটে পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জাআ