ফরিদপুরে ইউপি সচিবদের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি

পদমর্যাদা ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে সারা দেশের ন্যায় ফরিদপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আধা ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দাবি সম্বলিত স্মারকলিপিটি প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রামানন্দ পাল এ স্মারক লিপিটি গ্রহন করেন। এদিকে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি, ফরিদপুর জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৯০ সন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা (পূর্বতন ইউপি সচিব) পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি করা হয়।
তবে চাকুরি বিধিমালা ২০১১ অনুযায়ী ১৪তম গ্রেডের এ পদে বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী করা হয়। কিন্ত উক্ত বিধিমালার ১৩ অনুযায়ী কোন কর্মচারীকে উচ্চতর পদে পদন্নতির বিষয় বিবেচনার কথা থাকলেও তা স্পষ্ট না করায় পদন্নতি হতে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত সমপদে বা নিম্নপদে কর্মরত অনেকের তুলনায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন দাবি করে বক্তারা বলেন সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাবলে সমপদে বা নিম্নপদে নিয়োগ প্রাপ্ত ‘সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পুলিশের এসআই, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষক, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, গ শ্রেণীর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাসহ এমন অনেকের সমপদ বা নিম্নপদের বেতন স্কেল আপগ্রেড হলেও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদটির কোন পরিবর্তন হচ্ছেনা।
যদিও ২০২০ সালে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ ১০ গেডে উন্নীত করার প্রেক্ষীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নিমিত্তে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় একমত পোষন করলে বহুবার জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রনালয়ে এ সংক্রান্ত নথি চলাচল হলেও তা বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে পদন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনেক আগে নেয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে সবধরনের সেবা পরিসেবার জন্য গঠিত ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বপালনকারী ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মারাত্মক বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।
এ সময় তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, সমযোগাযোগী নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি প্রদান করা, মন্ত্রণালয় হতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের শতভাগ বেতন ভাতা প্রদান করা, অবসরকালীন ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে শতভাগ আনুতোষিক অথবা পারিবারিক পেনশন প্রদান করা এবং স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন সম্বলিত এই পাঁচ দফা দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য দাবি জানান। একই সাথে বক্তারা বলেন, তাদেরও দেওয়া এ পাঁচ দফা দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কঠোর আন্দোনসহ বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন তারা। এ সময় সংগঠনটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলমসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/জাআ