সেতুর স্থানে সড়ক নির্মাণের দাবি
চিলমারীতে ভাঙা সেতুতে চরম দুর্ভোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের পাত্রখাতা সাব-বাঁধ এলাকায় ভাঙা সেতুতে উঠতে হচ্ছে একটি নড়বরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। এক এক করে কষ্টের প্রায় ৯ বছর কেটে গেল দুর্ভোগ আর ভোগান্তি বেড়েই চলেছে; তবুও এগিয়ে আসেননি কেউ।
উপজেলার রমনা পাত্রখাতা সাব-বাঁধ এলাকায় প্রায় ৯ বছর আগে নির্মিত সেতু ভেঙে অচল হওয়ায় স্থানীয়রা কাঠ-বাঁশ দিয়ে নির্মিত সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও সেটিও নড়বড়ে হয়ে রয়েছে ঝুঁকিতে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও উন্নয়নের অপেক্ষায় থাকলেও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না স্থানীয়দের। ৯টি বছর চলে গেলেও যাতায়াতে কষ্ট কাটছে না এলাকাবাসীর। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলছে পথচারী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের পাত্রখাতা সাব-বাঁধ এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ৪০ ফুট সেতু নির্মাণ করা হয়। নির্মাণে বছরেই পানির স্রোতে সেতুটি ডেবে ভেঙে যায়।
নির্মাণের বছর না কাটতেই সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সেতু পারাপার আগেই দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে পড়েন পথচলা হাজারো মানুষ। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ৯ বছরেও নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ বা করা হয়নি মেরামত ফলে যাতায়াতের কষ্ট কাটেনি র্দীঘদিনেও।
সেতুটি ভেঙে ডেবে যাওয়ায় হাজারো মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা কাঠ-বাঁশ দিয়ে সেতুর ওপর উঠিতে একটি সাঁকো নির্মাণ করে ৯ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও প্রশাসন কিংবা উক্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি নজর। এমনকি গ্রহণ করা হয়নি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও।
সরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় প্রতি বছর স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে কাঠ-বাঁশের সাঁকো মেরামত করে ভাঙা সেতুর উপর দিয়ে দুর্ভোগ আর ভোগান্তি নিয়ে চলছে বছরের পর বছর ধরে।
সেতু ভাঙা ও নড়বড়ে কাঠ-বাঁশের সাঁকো হওয়ায় প্রায় ৯ বছর ধরে পারাপার হয়নি কোন যানবাহন, যার কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ রয়েছেন বিপাকে।
স্থানীয়রা বলেন, এখানে সেতুর প্রয়োজন ছিল না কিন্তু কেন যে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এখানে সেতুটি নির্মাণ করা হলো আর সেই থেকে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ কষ্ট ভোগ করছে।
এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোগান্তি নিয়ে তো ৯ বছর থেকে চলছি এখন একটু শান্তি চাই, চলাচলে নির্ভয় চাই। তিনি আরও বলেন, এখানে সেতু বা কালভার্টের দরকার নেই এটি সরিয়ে এখানে মাটি ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করলে মানুষ বেশি উপকৃত হবে।
দুর্ভোগ ভোগান্তি আর ঝুঁকির কথা স্বীকার করে রমনা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা বলেন, মেরামতের জন্য এখনো কোন সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়নি তবে ব্যক্তিগত ভাবে একটি কাঠ-বাঁশের সাঁকো নির্মাণে সহযোগিতা করেছি।
কথা হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তকর্তা (অতি.) আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভোরের আকাশ/র.ই