ট্রফির নেশায় নয়, ‘প্রসেস’ মেনেই এগোতে চান হান্নান

হান্নান সরকার যেখানে যান, সেখানেই যেন ট্রফি জেতেন—কোচিং ক্যারিয়ারের গত দুই বছরের সাফল্য অন্তত তেমনটাই বলছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিপিএলের নবাগত রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে শিরোপা জেতানোর পর এবার গেম ডেভেলপমেন্ট (জিডি) ট্রফিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকেও চ্যাম্পিয়ন করেছেন তিনি। একের পর এক ট্রফি জয়ের পর এবার তাঁর চোখ কি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে?
তবে বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই বেশি দূর ভাবতে চান না হান্নান। আপাতত তাঁর মনোযোগ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও এশিয়া কাপ ঘিরে। তিনি বলেন, বিশ্বকাপের আগে দলের সামনে আরও বেশ কিছু সিরিজ রয়েছে। অ্যাওয়ে সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার পাশাপাশি এশিয়া কাপেও অংশ নেবে বাংলাদেশ। পরের বছর আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষেও বেশ কয়েকটি সিরিজ রয়েছে।
হান্নানের মতে, এসব সিরিজের মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং নিজেদের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াগুলো চালিয়ে যাওয়ার পরই বোঝা যাবে দল কতটা অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে এর আগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে হান্নানের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন তিনি। তবে শুধু পরিশ্রম ও পরিকল্পনাই নয়, শিরোপা জিততে ভাগ্যেরও প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন এই কোচ।
২০২০ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের উদাহরণ টেনে হান্নান বলেন, সেবার একটি ভেন্যুতেই সব ম্যাচ খেলা, বৃষ্টি ও রানরেটের হিসাবসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভাগ্যও বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। এশিয়া কাপের সাফল্যের ক্ষেত্রেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে চাপের মধ্যে আরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত ব্যাটিং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তাই বিশ্বকাপকে লক্ষ্য হিসেবে রাখলেও আপাতত এশিয়া কাপ ও সামনে থাকা সিরিজগুলোতেই মনোযোগ দিতে চান হান্নান। ভাগ্য সহায় হলে বিশ্বকাপেও ভালো কিছু করা সম্ভব বলে বিশ্বাস তাঁর।
ট্রফি জয়ের বিষয়ে হান্নান বলেন, যেকোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার মূল লক্ষ্য থাকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তবে এর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। জিডি ট্রফিতে অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল অংশ নেওয়ায় ডেভেলপমেন্টের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি জানান, স্কোয়াডে ১৫ জন খেলোয়াড় থাকলেও রোটেশনের মাধ্যমে ১৮ জনকে মাঠে নামানো হয়েছে। সবাইকে সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল, কারণ টুর্নামেন্টটির মূল উদ্দেশ্যের একটি ছিল খেলোয়াড়দের উন্নয়ন। প্রথম টুর্নামেন্টেই শিরোপা জয় তরুণদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেও মনে করেন তিনি।
নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকভাবে ট্রফি জয়ের রহস্যও জানিয়েছেন হান্নান। তাঁর মতে, এর মূল বিষয় হলো সঠিক ‘প্রসেস’ অনুসরণ করা। ডিপিএল, বিপিএল ও বিসিএলে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে দুটি চ্যাম্পিয়ন ও দুটি রানার্সআপের সাফল্য।
হান্নান বলেন, তিনি সবসময় প্রক্রিয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। এমনভাবে পুরো প্রক্রিয়া সাজানোর চেষ্টা করেন, যাতে চ্যাম্পিয়নশিপের পথে এগোনো সহজ হয়। সেই অনুযায়ী খেলোয়াড়দের গাইড করেন তিনি। পাশাপাশি কোচিং স্টাফের প্রতিটি সদস্যের অবদানকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
তাঁর বিশ্বাস, পরিশ্রম, কমিটমেন্ট, নিবেদন ও সঠিক প্রক্রিয়া ধরে এগোতে পারলে ভাগ্যও একসময় পক্ষে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন হান্নান।
ভোরের আকাশ/সু.পা